আমরা এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি, জমিজমা বা সম্পদের মালিকানার দাবি করি। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বোঝা যায়, মানুষের এই মালিকানা কতটা সীমাবদ্ধ এবং নশ্বর। সুরা ফাতিহার এই ক্ষুদ্র আয়াতে আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রকৃত মালিকানা এবং মানুষের ক্ষণস্থায়ী আধিপত্যের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বুদ্ধিমান মানুষের জন্য এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি লালন-পালন করছেন, প্রকৃত মালিকানা একমাত্র তাঁরই। আল্লাহর মালিকানা মানুষের মতো বাহ্যিক বা সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মালিকানা যেমন হস্তান্তরযোগ্য এবং মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়, আল্লাহর মালিকানা তেমন নয়। তিনি গোপনে, প্রকাশ্যে, জীবনে ও মরণে–সর্বাবস্থায় সবকিছুর একচ্ছত্র অধিপতি। তাঁর মালিকানার কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই।
আল্লাহতায়ালা দুনিয়াতেও সবকিছুর মালিক। তবুও আয়াতে বিশেষভাবে ‘প্রতিদান দিবস’ বা কিয়ামতের দিনের কথা বলা হয়েছে কেন? এর তাৎপর্য হলো–দুনিয়াতে আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে কিছু সম্পদের অস্থায়ী মালিকানা দান করেছেন এবং জাগতিক আইনে সেই মালিকানাকে সম্মানও দিয়েছেন। এই ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার মোহে পড়ে মানুষ অনেক সময় অহংকারী হয়ে ওঠে এবং নিজেকেই সবকিছুর কর্তা মনে করতে শুরু করে।
আল্লাহতায়ালা মানুষকে এই বলে সতর্ক করেছেন যে, তোমাদের এই মালিকানা কয়েক দিনের মাত্র। শিগগিরই এমন এক দিন আসছে যেদিন কারও কোনো বাহ্যিক আধিপত্যও থাকবে না। সেদিন কোনো রাজা থাকবে না, কোনো প্রজা থাকবে না; কোনো সেবক থাকবে না, কোনো প্রভু থাকবে না। সুরা মুমিনে এই দৃশ্যটিই ফুটে উঠেছে–আজ কার রাজত্ব? (উত্তরে বলা হবে) সেই আল্লাহর, ‘যিনি একক ও পরাক্রমশালী।’
সুরা ফাতিহার প্রথম তিনটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে ঈমানের মূল ভিত্তিগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ বাক্যটির মাধ্যমে কেবল আল্লাহর প্রশংসাই করা হয়নি, বরং ইসলামের সবচেয়ে বিপ্লবাত্মক আকিদা ‘পরকাল’ ও ‘কিয়ামতকে’ অকাট্য যুক্তি দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা কেবল এক মালিকের নিকট থেকেই আসিনি, বরং একদিন তাঁর কাছেই ফিরে গিয়ে আমাদের প্রতিটি কর্মের হিসাব দিতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..