ইরান যুদ্ধ শেষের পথে: ট্রাম্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৫, | ১০:২২:৪৪ |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল, স্থানীয় সময়) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি প্রায় শেষের পথে। হ্যাঁ, আমি এটিকে খুব কাছাকাছি শেষ হয়ে আসছে বলেই দেখি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা এই সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ঠিক কোথায় এই বৈঠক হতে পারে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে।

বৈঠক হতে পারে পাকিস্তানের
পাকিস্তানে ইরানি দূতাবাসের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা খুব শিগগির হতে পারে। তবে আল-জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েট প্রেস জানিয়েছে, এখনো বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান চূড়ান্ত হয়নি।

সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার ক্ষেত্রে তুরস্ক এবং মিশর সম্ভাব্য আয়োজক হতে পারে।

সমুদ্রপথে ইরানের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে সমুদ্রপথে সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ‘পুরোপুরি কার্যকর’ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ আরোপের মাত্র ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।’

সেন্টকমের প্রধান আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরগুলোতে যেকোনো দেশের জাহাজ প্রবেশ বা বের হওয়ার ক্ষেত্রে এ অবরোধ কঠোরভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হবে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য ইস্যুতে সমঝোতায় বাধ্য করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..