দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে ইরান সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেলের উচ্চ মূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও কাঁচামালের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ধরে নিয়ে সরকারকে প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা আরো জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, 'বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও কাঁচামাল সরবরাহে সাময়িক সমস্যা থাকবে, আর তেলের দামও উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।'
প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শিল্প খাতকে মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদে পুনর্গঠন এবং প্লাস্টিক-পরবর্তী অর্থনীতির দিকেঅগ্রসর হওয়াকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। রয়টার্স জানায়, যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত অতিরিক্ত বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তাগিদ দেন তিনি।
বৈঠকে মন্ত্রীরা অর্থনীতিতে সংঘাতের প্রভাব কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে সহায়তা, পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা।
শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এখনো সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছাতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগতে পারে। মন্ত্রিসভার এক নথিতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় এলাকায় আটকে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াগামী সাতটি তেলবাহী জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানান, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঙ্গো, আলজেরিয়া ও লিবিয়ায় কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সফর করছেন। সবশেষে প্রেসিডেন্ট বলেন, চলমান সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোকে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিশ্ব শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে। মানবাধিকারের সুরক্ষা ও ইতিহাসের শিক্ষা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।