বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলা নববর্ষ (পয়লা বৈশাখ) উপলক্ষ্যে রাজধানী রমনা পার্কের ঐতিহাসিক পান্তা-ইলিশ উৎসবের চিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। একসময় বৈশাখ বরণে রমনা পার্কজুড়ে অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশের পসরা সাজানোর ধুম পড়লেও, এ বছর সেই চিরচেনা দৃশ্য দেখা যায়নি।
বর্ষবরণের দিনে ঢাকাবাসীর প্রধান এই আকর্ষণ কেন্দ্রে এ বছর কোনো অস্থায়ী পান্তা-ইলিশের দোকান বসতে দেখা যায়নি। তবে পার্কের স্থায়ী রেস্টুরেন্টে পান্তা-ইলিশ মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ছোট আকারের এক টুকরো ইলিশসহ এক প্লেট পান্তা ভাতের দাম রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা। সাধারণ পান্তা-ইলিশের এমন অস্বাভাবিক দাম নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উৎসবে আসা সাধারণ ভোক্তারা।
শুধু রমনা পার্কেই নয়, এ বছর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য স্থানগুলোতেও অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। মার্চ-এপ্রিলে দুই মাসের অভয়ারণ্যের নিষেধাজ্ঞা ও চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইলিশের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় অস্থায়ী দোকানগুলো পসরা সাজিয়ে বসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
পুরো রমনা পার্কে কেবল ‘মি. কুক রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং’-এ পান্তা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এই রেস্টুরেন্টে ওয়ান টাইম বাটিতে কিছু পান্তা ভাত, ছোট সাইজের ইলিশের একটুকরো মাছ এবং এক টুকরো বেগুন ভাজি নিয়ে প্যাকেজ সাজানো হয়েছে। এই প্যাকেজের দাম নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে একটি ওয়ান টাইম প্লেট। ওই প্লেটে পান্তা-ইলিশ ও বেগুন সাজিয়ে রাখলেও প্লেটের কিছু অংশ ফাঁকা পড়ে থাকছে।
ভোক্তাদের দাবি , এবছর বাহিরে খোলা দোকানগুলো পান্তা-ইলিশ বিক্রি করছে না৷ এই একটি মাত্র দোকানে বিক্রি করলেও দাম নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। অনেকে ছেলে-মেয়ের আবদার রাখতে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামের পান্তা-ইলিশ কিনছেন।
মি. কুক রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিংয়ের কর্মীরা জানান, তারা ৫০০ গ্রাম বা তার চেয়ে একটু বড় সাইজের ইলিশ মাছ কিনেছেন। ওই ইলিশের এক টুকরো মাছ, এক টুকরো বেগুন ভাজি ও এক প্লেট সমপরিমাণ পান্তা ভাত ওয়ান টাইম বাটিতে রেখে প্যাকেজ সাজিয়েছে। এবছর মাছের দাম অনেক বেশি হওয়ায় প্যাকেজের দামও একটু বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।