সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) ঋণের ৩৫০ কোটি ডলার একবারে শোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে বিশাল অংকের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাধারণত এ ধরনের ঋণ প্রতি বছর নবায়ন বা রোল-ওভার করা হলেও এবার তা একবারে শোধ করে দেয়ার বিষয়কে দুই দেশের কূটনীতিক সম্পর্কের অবনতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।
উল্লেখ্য, এর মধ্যে ১৯৯০-এর দশকের বকেয়া কিছু ঋণও রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে আরব আমিরাত ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও পাকিস্তান নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠ এসেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধে আমিরাতের পক্ষ না নেয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে আমিরাত ঋণের মেয়াদ এক বছরের বদলে এক মাসের জন্য নবায়ন করছিল এবং সুদহার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাতীয় মর্যাদা রক্ষার্থেই পাকিস্তান এ ঋণের বোঝা একবারে মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে একটি ‘স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
৩৫০ কোটি ডলারের পাশাপাশি চলতি মাসে পাকিস্তানকে আরো ১৩০ কোটি ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করতে হবে। ফলে এপ্রিলে দেশটিকে মোট ৪৮০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হচ্ছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশটির রিজার্ভে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার রয়েছে। এ অর্থ পরিশোধের পর রিজার্ভ প্রায় ২০ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
রিজার্ভ কমে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মান আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে গত এক মাসে। এ অবস্থায় রিজার্ভ কমে গেলে তেল আমদানির খরচ মেটানো পাকিস্তানের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..