চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার জেরে জানুয়ারি-মার্চে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় চিপ নির্মাতাটি। খবর আনাদোলু।
টিএসএমসির তথ্যানুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল, মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে টিএসএমসির আয় হতে পারে ৩ হাজার ৫২০ কোটি ডলার।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মার্চে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে টিএসএমসি। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় গত মাসে আয় ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ প্রযুক্তির চিপের বাজারে টিএসএমসির আধিপত্য আরো জোরালো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে এআই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে টিএসএমসি। বর্তমানে অ্যাপল ও এনভিডিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য উন্নত মানের চিপ তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যখন এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে, তখন উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের জন্য সবাই তাইওয়ানিজ প্রতিষ্ঠানটির ওপরই নির্ভর করছে।
কোম্পানিসংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকলেও টিএসএমসির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং উচ্চ প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টরের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের অদম্য চাহিদাই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও স্থিতিশীল রেখেছে।
উল্লেখ্য, টিএসএমসি সাধারণত প্রতি মাসে আয়ের তথ্য প্রকাশ করলেও নিট মুনাফার বিস্তারিত হিসাব দেয় না। ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে মুনাফা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ জাতীয় আরো খবর..