✕

সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ ধানমন্ডিতে ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক, দাঁড়িয়ে থাকা এএসআই প্রত্যাহার উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনে অচল ক্যাম্পাস—চুয়েটে যা ঘটল রিমান্ড শেষে আয়াস-রিমি কারাগারে সেই দেয়ালে এবার বেগম রোকেয়া, জসীমউদ্‌দীন ও জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি সিসামুক্ত দেশ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান স্কুলের অফিস কক্ষে শিক্ষক দম্পতির মারামারি, নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা কয়রার অসুস্থ মা ও শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন আমাদের বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি

বেইজিং কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘সহ্য করবে না’

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুয়োমিনতাং-এর চেয়ারওম্যান চেং লি-ওনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১১, | ১২:৪৭:৫০ |
তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রচেষ্টাকে তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বিনষ্টের প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুয়োমিনতাং-এর চেয়ারওম্যান চেং লি-ওনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বেইজিং কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘সহ্য করবে না’। 

তাইওয়ানের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে চেং লি-ওন বর্তমানে চীনে ‘শান্তি মিশনে’ রয়েছেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

বৈঠকে শি জিনপিং বর্তমান বিশ্বের অশান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শান্তিকে ‘মূল্যবান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাইওয়ানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত তার বক্তব্যে শি বলেন, ‘প্রণালীর দুই তীরের স্বদেশীরাই মূলত চীনা—আমরা এক পরিবারের মানুষ যারা শান্তি, উন্নয়ন, বিনিময় এবং সহযোগিতা চাই। যখন একটি পরিবারে সম্প্রীতি থাকে, তখন সবকিছুরই উন্নতি হয়।’

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, প্রণালীর উভয় পক্ষই ‘একই চীনের’ অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি সতর্ক করে এও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এই সম্প্রীতির পথে প্রধান বাধা এবং চীন এটি কখনোই প্রশ্রয় দেবে না। 

উল্লেখ্য, চীনের সরকার অনেক দিন ধরেই তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে একজন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে গণ্য করে আসছে এবং তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। 

অন্যদিকে লাই প্রশাসন চেং লি-ওনকে আহ্বান জানিয়েছিল যেন তিনি বেইজিংকে তাদের হুমকি বন্ধ করার কথা বলেন এবং তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করেন। চেং লি-ওন একজন চীনপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে কাজ করেছেন। 

চীন-তাইওয়ান এই দুই অঞ্চলের মধ্যে ঐতিহাসিক বিরোধ রয়েছে। ১৯৪৯ সালে মাও সে তুং-এর কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তৎকালীন কুয়োমিনতাং সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়নি। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরকে স্বীকৃতিও দেয় না। 

এদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী। বেইজিং বারবার ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই কড়া বার্তা এবং তাইওয়ানের বিরোধী দলের সঙ্গে এই বৈঠক তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। 

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..