বরগুনায় হামে আক্রান্ত ১৮, ঢাকায় ৬২ জনের নমুনা প্রেরণ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-৩১, | ২০:২১:১৩ |
বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলের হাসপাতালে বাড়তে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বরগুনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ জন। তবে আক্রান্ত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ৬২ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৮৪ জন রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক রোগী ভর্তির সংখ্যা ৮ জন। এসব রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১৮ জন রোগী হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। 

দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধিসহ মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে শুরু করেছে। আর এ কারণেই বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আলাদাভাবে ৩০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরগুনার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনায়  ২টি করে মোট ৬টি শয্যা এবং বেতাগীতে ১টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বরগুনা সদর উপজেলার বাইরে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

হাম আক্রান্ত রোগী এবং স্বজনদের উদ্দেশ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. আশিকুর রহমান বলেন, হাম খুবই সংক্রমিত একটি রোগ। গবেষণা অনুযায়ী একজন আক্রান্ত রোগী ১৬-১৮ জনকে আক্রান্ত করতে পারে। সাধারণত হাঁচি, কাশি এবং সরাসরি রোগীর সংস্পর্শের মাধ্যমে হাম ছাড়ায়। কোনো শিশুর যদি অনেক বেশি জ্বর, চোখ লাল এবং নাক দিয়ে পানি পড়ছে এমন লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে শিশুটিকে আলাদা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। 

হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের জ্বর আসলেই হাম ভেবে তাকে আলাদা করে ফেলতে হবে। তবে এটি অন্য ভাইরাস জনিত জ্বরও হতে পার। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা করতে হবে। এছাড়াও ছোট-বড় সকলকেই মাস্ক ব্যবহারসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে বাচ্চাদের এই সময়ে সম্ভব হলে ঘরের বাইরে বের করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ বিষয়ে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, হাম আক্রান্ত রোগীদে চিকিৎসার জন্য প্রধান কাজ হচ্ছে আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা। প্রাদুর্ভাব শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ১৫ শয্যার দুটি আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও  ১৫টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে বরিশালে হাম শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত ৬২ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। 

তিনি আরও বলেন, হামের প্রথম উপসর্গই হচ্ছে জ্বর। একজন আক্রান্ত রোগী কমপক্ষে ১৮ জনকে আক্রান্ত করতে পারে। কোনো শিশু জ্বর, সর্দি এবং কাশিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে অথবা হাসপাতালে ভর্তি রেখে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..