ইউনিসেফ জানিয়েছে, সোমালিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার মূল্যের পুষ্টিকর খাবার, ভ্যাকসিন ও মশারিসহ জীবনরক্ষাকারী রসদ বর্তমানে ট্রানজিটে রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ সরবরাহ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে
দক্ষিণ সোমালিয়ার ডলো শহরের ‘লাদান’ বাস্তুচ্যুত শিবিরে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। অপুষ্টিতে জর্জরিত শিশুরা কান্না করার শক্তিও হারিয়ে ফেলছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, সোমালিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার মূল্যের পুষ্টিকর খাবার, ভ্যাকসিন ও মশারিসহ জীবনরক্ষাকারী রসদ বর্তমানে ট্রানজিটে রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ সরবরাহ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। খবর এপি।
ইউনিসেফের বরাতে এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রুট পরিবর্তন ও ব্যাকলগের কারণে জাহাজ ভাড়া ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
গত বুধবার ডলো সফরকালে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ পরিস্থিতিকে ‘পুরো ব্যবস্থার ওপর একটি বড় আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ মানেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ও উচ্চ জ্বালানি খরচ। এর চূড়ান্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে সোমালিয়ার অসহায় শিশুদের।’
লাদান শিবিরে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্লাস্টিকের শিট, ছেঁড়া কাপড় আর কাঁটাঝোপ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাউনিই তাদের সম্বল। ২০ বছর বয়সী বিধবা শামসো নূর হোসেন জানান, বাকুল অঞ্চল থেকে সব গবাদিপশু হারিয়ে তিনি এখানে এসেছেন শুধু সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার আশায়। কেবল ‘র চা’ খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
লাদান শিবিরের ডেপুটি চেয়ারম্যান আবদিফাতাহ মোহামেদ ওসমান জানান, পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগ মহামারি আকার ধারণ করছে। চিনা বাদামের পেস্টের মতো জীবনরক্ষাকারী খাবারগুলোই এখন শিশুদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। দ্রুত নতুন ত্রাণ সরবরাহ না পৌঁছালে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।
সোমালিয়ার মানবিক সংকট কেবল যুদ্ধের কারণেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অভাবেও ঘনীভূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় গত এক বছরে দেশজুড়ে ৪০০-এর বেশি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সহায়তা ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আরো অনেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।
সোমালিয়া সরকারের দেয়া তথ্যমতে, দেশটির ২ কোটির বেশি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার সম্মুখীন। খরা, সংঘাত ও বৈশ্বিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ১৮ লাখ ৪০ হাজার শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতায় ভুগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..