চীন ও ভারতে জ্বালানি তেল রপ্তানি কমাচ্ছে সৌদি আরব

সৌদি আরামকো এপ্রিলে চীনে প্রায় ৪ কোটি ব্যারেল এবং ভারতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির পরিকল্পনা করছে | ছবি: রয়টার্স

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-৩১, | ১৮:০০:৪৬ |
আগামীকাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। এতে এশিয়ার দুই প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন ও ভারতে জ্বালানি তেল রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব আগামী মাস থেকে ভারত ও চীনে জ্বালানি তেল সরবরাহ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।


বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। এতে এশিয়ার দুই প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন ও ভারতে জ্বালানি তেল রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। জানা গেছে, সৌদি আরামকো এপ্রিলে চীনে প্রায় ৪ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। একইভাবে ভারতের বাজারেও জ্বালানি তেল সরবরাহ কমছে। দেশটিতে আগামী মাসে ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল পৌঁছাতে পারে, যা আগের মাসগুলোতে ছিল গড়ে ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলো এখন বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরামকো তাদের জ্বালানি তেলের একটি অংশ আরব উপদ্বীপের পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই সমাধানটি দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত নয়। এই বন্দরের দৈনিক রফতানি সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের ৭২ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এই রুট দিয়ে কেবল ‘আরব লাইট’ গ্রেডের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা সব আমদানিকারকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলোও এই সংকটের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে অন্তত দুটি ইউরোপীয় কোম্পানি তাদের এপ্রিলের বরাদ্দ কাটছাঁট করার খবর দিয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের এই প্রভাব বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সৌদি আরামকো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা যে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে তা এখন স্পষ্ট।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..