সামরিক জোট গঠন করছে তুরস্ক সৌদি মিশর ও পাকিস্তান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২২, | ১৭:০০:৩১ |
তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রিয়াদে ইসলামি দেশগুলোর একটি সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেছেন এবং এই প্রথমবারের মতো নিজেদের শক্তিকে একত্রিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তুরস্ক গত বছর থেকেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে এক পাকিস্তানি মন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান যে, এ ধরনের একটি চুক্তি প্রায় এক বছর ধরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত তুর্কি সূত্রগুলো এর আগে জানিয়েছিল যে, আঙ্কারা এই ব্যবস্থায় মিশরকেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তি ন্যাটোর গ্যারান্টি বা প্রতিশ্রুতিগুলোর মতো হবে না; বরং এটি একটি নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা প্রতিরক্ষা শিল্প এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা বিষয়ে আরও বেশি সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার (২১ মার্চ) বলেন, ‘আঞ্চলিকভাবে নির্দিষ্ট মাত্রার প্রভাব রয়েছে এমন দেশ হিসেবে আমরা কীভাবে আমাদের শক্তিকে একত্রিত করে সমস্যার সমাধান করতে পারি, তা খতিয়ে দেখছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সর্বোপরি, আমরা বেশ কিছুকাল ধরে বলছি যে অঞ্চলের দেশগুলোর একত্রিত হওয়া উচিত, আলোচনা করা উচিত এবং নতুন ধারণা তৈরি করা উচিত। আমরা 'আঞ্চলিক মালিকানা'র ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ফিদান আরও যোগ করেন যে, দেশগুলো বর্তমানে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তেহরানের পাল্টা হামলার বিষয়গুলোও রয়েছে। এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের যৌথ প্রচেষ্টা কী ধরনের সুবিধা বয়ে আনতে পারে, তা-ও তারা বিবেচনা করছেন।

তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমাদের এটি স্বীকার করতে হবে: হয় আমাদের একত্রিত হয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করতে শিখতে হবে, অথবা কোনো বহিরাগত আধিপত্যবাদী শক্তি এসে তাদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি হয় এমন সমাধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবে, অথবা নিজেরা কিছু না করে অন্যদেরও পদক্ষেপে বাধা দেবে।’

আঙ্কারা বারবার ইসরাইলকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রধান উস্কানিদাতা হিসেবে বর্ণনা করলেও, বৃহস্পতিবার রিয়াদে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একটি যৌথ বিবৃতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ইসরাইলের কথা অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং লেবাননে তাদের ‘সম্প্রসারণবাদী’ নীতির কথা বলা হয়েছে।

‘আমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করতে শিখতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে,’ ফিদান বলেন।

তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্মিলিত উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আঙ্কারার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোর সবারই উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কারা যেখানে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে এবং উন্নত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র এবং সৌদি আরব উন্নত প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

সবচাইতে জনবহুল আরব দেশ হিসেবে মিশর তার সামরিক সক্ষমতার কারণে এই অঞ্চলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের কায়রো সফরের সময় নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে তুরস্ক ও মিশর গত ফেব্রুয়ারিতে একটি দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ওই সফরের সময় তুর্কি অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন’ (এমকেই) মিশরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে গোলাবারুদ বিক্রি এবং উৎপাদন লাইন স্থাপনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..