কাতারের গ্যাস স্থাপনায় আবার হামলা হলে ইরানের গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেব : ট্রাম্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৯, | ১২:৩২:৫৭ |
কাতারের বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এই হামলাকে সংঘাতের ‘বড় ধরনের মোড়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এদিকে, কাতারের গ্যাসক্ষেত্র স্থাপনায় ইরান যদি আর কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তবে দেশটির পুরো ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্র ‘বিশাল বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাঁর নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এ হুমকি দিয়েছেন।

পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের আগের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার ‘কিছুই জানত না’। তিনি বলেন, ইসরায়েল ওই গ্যাসক্ষেত্রে ‘আর কোনো হামলা চালাবে না’-যদি ইরান ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ একটি দেশ, কাতারের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত না নেয়’।

ট্রাম্প বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে (কাতারে গ্যাসক্ষেত্রে আবার হামলা করলে) ইসরায়েলের সহায়তা বা সম্মতি থাকুক আর না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্র একাই পুরো সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রকে এমন শক্তিশালী ও প্রচণ্ড মাত্রার বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেবে, যা ইরান এর আগে কখনো দেখেনি বা প্রত্যক্ষ করেনি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই পর্যায়ের সহিংসতা বা ধ্বংসযজ্ঞের অনুমতি দিতে চাই না। কারণ ইরানের ভবিষ্যতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। কিন্তু কাতারের এলএনজি স্থাপনায় যদি আবার হামলা হয়, তবে আমি এটি করতে দ্বিধা করব না।’

ট্রাম্পের এ পোস্টের আগে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের বেশ কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে সেখানে ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কাতার এনার্জির এ বক্তব্যের আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা শুধু কাতারের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন ‘সাউথ পার্স’ বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র এবং এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস।

সূত্র : সিএনএন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..