ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন এখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে বহু প্রাণহানির পাশাপাশি বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসছে।
ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাডার এএন/এফপিএস-১৩২ ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ বিভাগ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–এর জনসংযোগ দফতরের বরাত দিয়ে তেহরান টাইমস জানিয়েছে, এই রাডারের নজরদারি সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এএন/এফপিএস-১৩২ রাডার
এএন/এফপিএস-১৩২ একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার, যা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এর মাধ্যমে দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাডারটি কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি বসানো হয়।
আইআরজিসি দাবি করেছে, একটি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাডারটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। কিছু কাতারি কর্মকর্তা নাকি এই ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদি এটি সত্য হয়, তাহলে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তেল আবিব এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়নস রোর’। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি।’
ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশব্যাপী ৭৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জবাবে ‘অপারেশন ট্রু প্রোমিস ৪’ নামে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..