পাবনায় দাদি-নাতনিকে হত্যার ঘটনায় আটক ২

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-২৮, | ১৯:১৭:৪৬ |
পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে দাদিকে হত্যা করে বাড়ি থেকে নাতনিকে অপহরণ করা হয়। পরে সকালে বাড়ির পাশের শস্য ও গমের ক্ষেতের সীমানা থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় নাতনির মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, দুজনকে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

‎শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ার দিকশাইলে এ ঘটনা ঘটে৷

‎নিহতরা হলেন- ভবানিপুর উত্তরপাড়ার দিকশাইলের মৃত নাজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি মাদরাসার ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা আক্তার (১৫)। নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

পরিবার ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা জয়নাল হোসেন ও মা শিরিনা খাতুনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি (ডিভোর্স) হওয়ার পর থেকে দাদির সঙ্গে থেকে পার্শ্ববর্তী দিকশাইল দাখিল মাদরাসায় ১০ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো জামিলা। জামিলার বাবা গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় কাজে গিয়েছে। এই কারণে বাড়িতে বৃদ্ধা দাদিকে নিয়ে জামিলা একাই বাড়িতে ছিল।

‎ঘটনার দিন সকালে প্রতিবেশী আসাদুল প্রামানিকের ছেলে ফাহিম পানি নেওয়ার জন্য জামিলাদের বাড়িতে যায়। বাড়ির দরজায় বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ডাক চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। পরে তারা নাতনি জামিলাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে জামিলার পরনের পায়জামা, ৩ গজ দূরে জামা ও ৫ গজ দূরে গম ও সরিষা ক্ষেতের সীমানা (আইলের ওপর) জামিলার বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়।

‎প্রতিবেশী আসাদুল প্রামানিকের ছেলে মারুফ হোসেন জানান, সকালে তাদের বাড়িতে নলকূপ বসানোর জন্য পানির প্রয়োজন পড়ে। তার ছোট ভাই ফাহিম পানি আনতে জামিলাদের বাড়িতে যায়। সেই প্রথমে বৃদ্ধা দাদিকে দরজার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা সবাই ছুটে এসে এই নির্মম ও নৃশংস ঘটনা দেখতে পান।

‎নিহতের চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম জানান, সকালে তারা কাজে চলে যান। সকাল ৮টার দিকে চাচাতো বোন জামিলা ও দাদিকে হত্যার খবর পান।

‎নিহত জামিলার মা শিরিনা খাতুন জানান, প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বি বেশ কিছুদিন ধরে জামিলাকে উত্ত্যক্তসহ কু-প্রস্তাব দিতো বলে জামিলা তাকে মোবাইলে জানিয়েছিল। এরপরই মেয়ে জামিলা ও বৃদ্ধ শাশুড়ির এই নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটলো।

‎এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাব্বি নামে এক যুবকসহ দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

‎পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার জাহিদ বলেন,  এ হত্যাকাণ্ড খুবই জঘন্যতম হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই, র‌্যাব সদস্যারা কাজ করছে। নিহতদের মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ অপরাধীদের আটকের চেষ্টা চলছে। তবে আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। সেগুলো নিয়ে কাজ করতেছি। এ ঘটনায় একাধিক লোক জড়িত থাকতে পারে। অতি শিগগিরই আপনাদের কাছে আমরা বিস্তারিত ঘটনা জানাবো। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..