কামিকাজি ড্রোন কেন এতো বিধ্বংসী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-২৭, | ১৮:৫০:৪৭ |
ইরানে হামলা করার জন্য মার্কিন বাহিনী কামিকাজি ড্রোন বহর প্রস্তুত করেছে। এই খবর সামনে আসতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অত্যন্ত চতুর অস্ত্রটি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি নতুন এবং এই প্রথম তারা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। তবে যদি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্রে হামলার অনুমতি দেন, তবেই এর অভিষেক হতে পারে। অন্যথায়, এ দফায় তা ব্যবহার করতে পারবেন না মার্কিন সেনারা।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে দেশটির অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। এর সঙ্গে আছে বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার। এছাড়া তিন শতাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও এই বহরে যুক্ত আছে। 

এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে এটি ইসরাইলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এরপরও ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী কামিকাজি ড্রোন ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

নামের উৎস কী

কামিকাজি ড্রোন নামটি সমরাস্ত্রের ইতিহাসে বেশ নতুন।  নামটি এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে। সেই সময় জাপানি আত্মঘাতী পাইলটদের 'কামিকাজি' বলা হতো, যারা বিস্ফোরক ভর্তি বিমান নিয়ে শত্রুর জাহাজে আছড়ে পড়তেন। সেই ধারণা থেকেই এই ড্রোনের নামকরণ করা হয়েছে।

কামিকাজি ড্রোন কী

কামিকাজি ড্রোন হলো এমন এক ধরনের বিশেষ ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান, যা লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আছড়ে পড়ে নিজেকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়। একে সামরিক পরিভাষায় 'লোটারিং মিউনিশন' বা 'আত্মঘাতী ড্রোন' বলা হয়।

এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি হলো একমুখী মিশন বা অভিযান পরিচালনা করা। সাধারণ ড্রোন হামলা চালিয়ে ফিরে এলেও, কামিকাজি ড্রোন শুধু একমুখী মিশনের জন্য তৈরি। এটি নিজেই একটি শক্তিশালী বোমা বা মিসাইল হিসেবে কাজ করে। হামলা করে নিজে ধ্বংস হয়ে যায়, ফিরে আসতে পারে না।

এই ড্রোনের লোটারিং বা অপেক্ষা করার বিশেষ ক্ষমতা আছে। এটি আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে চক্কর দিতে পারে (যাকে লোটারিং বলা হয়) এবং উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তু খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।

নির্ভুল লক্ষ্যভেদেও এর বেশ দক্ষতা আছে। জিপিএস, সেন্সর বা রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে সেটিতে আঘাত হানে।

এই ড্রোন আর কোন দেশ ব্যবহার করে

যুক্তরাষ্ট্র কামিকাজি ড্রোন ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে বলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এটি বেশ আগ থেকেই ব্যবহার করে ইরান। এমনকি গত বছরের জুনে ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দিতে গিয়ে ১২ দিনের যুদ্ধে এই ড্রোন ব্যবহার করেছিল তেহরান।

বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইরানি শহীদ-১৩৬ ড্রোনের বা কামিকাজি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতও তাদের সক্ষমতা বাড়াতে শত শত কামিকাজি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরানি প্রযুক্তির পথে হাঁটল 

মার্কিন বাহিনী এমকিউ-৯ রিপারের মতো যেসব ড্রোন ব্যবহার করে সেগুলো খুবই ব্যয় বহুল। আবার ধ্বংসের ক্ষমতা খুব বেশি নয়। এর বিপরীতে কামিকাজি ড্রোন অত্যন্ত ব্যয় সাশ্রয়ী ও নিজে নিজে লক্ষ্য স্থীর করে আঘাত হানতে পারে।

কামিকাজি ড্রোন প্রথাগত মিসাইলের তুলনায় অনেক সস্তা ও ছোট আকারের হওয়ায় রাডারে ধরা পড়াও কঠিন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..