ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ সংসদীয় আসনের ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ ভোটের মধ্যে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০৯ জন বিজয়ী হন। দুটি আসনে ভোটে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। আসনগুলোতে বিএনপি প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করে ৬৮ আসনে বিজয়ী হন। এতে প্রদত্ত ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন ২৫৭ আসনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট করে একটি আসনে বিজয়ী হলেও পেয়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪ আসনে রিকশা প্রতীকে কোনো আসন না পেলেও ২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২৭৪ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের প্রতীকে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি করে আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন সাতটি আসনে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা করেনি ইসি। ওই আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থী বেশি ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল, বিজেপি গরুর গাড়ি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করেছিল। এর মধ্যে খেজুর গাছ ৪টি আসনে নির্বাচন করে পায় শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট, গরুর গাড়ি শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, ট্রাক শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, মাথাল প্রতীক শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, কোদাল শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জোটের আরেক শরিক এনডিএম ৮ আসনে নির্বাচন করে ০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ববি হাজ্জাজ দলটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করেন। এ জোটে বিএনপি ছাড়া কোনো দলই এক শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি। এ জোট মোট ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এ জোটের জামায়াত দাঁড়িপাল্লায়, এনসিপি শাপলা কলি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা, খেলাফত মজলিস দেয়াল ঘড়ি, এলডিপি ছাতা, এবি পার্টি ঈগল, লেবার পার্টি আনারস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বটগাছ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি বই, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ফুলকপি প্রতীকে নির্বাচন করেন। ঈগল শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ, দেয়াল ঘড়ি শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ, বটগাছ প্রতীক শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বিডিপি শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ, আনারস শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বই শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ, ছাতা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জামায়াত জোটের এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়া বাকি দলগুলো এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ১৯৯ জন প্রার্থী নির্বাচন করলেও এক শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি তারা। দলটি শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ৬৩ জন কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির প্রার্থীরা ২৮ আসনে তারা প্রতীকে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। নাগরিক ঐক্যের ১১ প্রার্থী কেটলি প্রতীকে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। গণফোরাম ২০ আসনে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, জাকের পার্টি ৫ আসনে গোলাপফুল প্রতীকে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ, জাতীয় পার্টি-জেপি ১০ আসনে বাইসাইকেল প্রতীকে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
আমজনতার দল প্রজাপতি প্রতীকে ১৫ আসনে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ আসনে আপেল প্রতীকে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ, ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ার প্রতীকে ২০ আসনে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ, জনতার দল শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ, এনপিপি শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মোটরগাড়ি প্রতীকে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাপ শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মাইনোরেটি জনতা পার্টি শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, রিপাবলিকান পার্টি শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ, বিএসপি শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাসদ (মার্কসবাদী) শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ ও বাসদের প্রার্থীরা শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, জাগপা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন), বিএনএফ, মুসলিম লীগ ও সমঅধিকার পার্টি শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..