ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ৫১ বছর বয়সী মাওলানা নুরুল আমিন। মসজিদের মিম্বার থেকে সরাসরি জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর-৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
মাওলানা নুরুল আমিন পেশায় একজন ইমাম ও খতিব। পাশাপাশি পীরগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিন কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি। স্থানীয়ভাবে এবং সারাদেশে তিনি ইসলামী বক্তা হিসেবেও পরিচিত।
উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রবাসী আলতাব হোসেন কর্তৃক ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আলতাব নগর জামে মসজিদের খতিব তিনি। ভোটের পরদিনও তিনি ওই মসজিদে ইমামতি করেন। সেখানে হাজার হাজার মুসল্লির ঢল নামে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। মাওলানা নুরুল আমিনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। ২ হাজার ৪২৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাওলানা নুরুল।
শুক্রবার নির্বাচনে জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ভোটাররা ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এ জয়ের পর তিনি ১১ দলের না এই আসনের সব মানুষের তথা পীরগঞ্জের জনপ্রতিনিধি হিসেবে কথা বলবেন। এই নির্বাচনটিকে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো কিছু সম্ভব না, আল্লাহ পাক মেহেরবানি করে আমাদের বিজয় দান করেছেন, এখন আমাদের কাজ হলো সকলে মিলে পীরগঞ্জকে সাজানো। যারা সম্মান দিয়ে আমাকে এ দায়িত্ব প্রদান করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলতে চাই।’
শহীদ আবু সাঈদের রক্তস্নাত পীরগঞ্জে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মাওলানা নুরুল আমিন পীরগঞ্জ পৌরসভার দুরামীতিপুর গ্রামের মাওলানা আজিজুর রহমান ও আমেনা খাতুন দম্পতির সন্তান। ১৯৭৪ সালের ১ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
এ জাতীয় আরো খবর..