ইউরোপের বাজারে নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ওপর গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে বড় এক ঘোষণা দিল চীনা অটোমোবাইল জায়ান্ট বিওয়াইডি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের গাড়ির ব্যাটারির ওয়ারেন্টির মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন থেকে বিওয়াইডির ব্যাটারিতে ৮ বছর বা ২ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা।
বিওয়াইডির এই নতুন ওয়ারেন্টি পলিসি বর্তমানে এই খাতের প্রচলিত মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে টেসলা ও ভক্সওয়াগেনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বড় ধরনের চাপে পড়বে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিওয়াইডি ইউরোপে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই নতুন শর্তগুলো অঞ্চলটিতে তাদের সব ‘নিউ এনার্জি ভেহিকল’ (এনইভি) বা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য কার্যকর হবে।
আগে বিওয়াইডি সাধারণত ৮ বছর বা ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দিত, যা বাজারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই ছিল। নতুন এই ঘোষণায় মাইলেজের সীমা ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ মূলত সেই সব চালককে আশ্বস্ত করবে, যারা গাড়ি অনেক বেশি চালান। বিশেষ করে ট্যাক্সি ও উবার চালকদের জন্য এটি বড় সুসংবাদ। কারণ তারা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে থাকেন।
ইউরোপের বাজারে অন্যান্য শীর্ষ ব্র্যান্ডের তুলনায় বিওয়াইডি এখন বেশ এগিয়ে। বর্তমানে ভক্সওয়াগেন ও টেসলার বেস মডেলগুলোতে ৮ বছর বা ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারি ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। এমনকি টেসলার ‘লং রেঞ্জ’ মডেলগুলোতে ৮ বছরের সঙ্গে ১ লাখ ৯২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। সেই তুলনায় বিওয়াইডি এখন প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি মাইলেজ কভারেজ দিচ্ছে। টেসলার লং রেঞ্জ ব্যাটারির চেয়েও বিওয়াইডির ওয়ারেন্টি ৫৮ হাজার কিলোমিটার বেশি। বিওয়াইডির এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে তাদের নিজস্ব ‘ব্লেড ব্যাটারি’ প্রযুক্তি। মজার ব্যাপার, টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কিছু গাড়িতে বিওয়াইডির এই ব্যাটারি ব্যবহার করে। ব্লেড ব্যাটারিতে লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) রাসায়নিক গঠন ব্যবহার করা হয়। এটি প্রচলিত নিকেল কোবাল্ট ম্যাঙ্গানিজ (এনসিএম) সেলের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই।
বিওয়াইডি দাবি করেছে, তাদের এই ব্যাটারি ৩ হাজার বারের বেশি চার্জ করা হলেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্ষমতা বজায় রাখে। যদি একটি গাড়ির রেঞ্জ ৪০০ কিলোমিটার হয়, তবে ৩ হাজার বার চার্জে এটি প্রায় ১০ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত সেবা দিতে সক্ষম। সেই হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটারের ওয়ারেন্টি বেশ নিরাপদ ও রক্ষণশীল একটি হিসাব।
সম্প্রতি ইউরোপে ‘সিলায়ন ৭’, ‘সিল’ ও ‘অ্যাটো ৩’-এর নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে বিওয়াইডি। বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে তারা কেবল গাড়ির দাম কমানোর দিকে নজর দিচ্ছে না, বরং স্থায়িত্বের গ্যারান্টি দিয়ে গ্রাহকের মন জয়ের চেষ্টা করছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসারে ও বৈদ্যুতিক গাড়ির দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণে বিওয়াইডির এই উদ্যোগ বিশ্ববাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। এখন দেখার বিষয়, টেসলার মতো অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়ারেন্টি পলিসিতে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।
এ জাতীয় আরো খবর..