✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৪, | ১১:১৩:০২ |বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার যুদ্ধপ্রবীণদের একটি সংগঠন। তাদের বক্তব্য, এই ম্যাচকে কোনোভাবেই ১৯৮২ সালের যুদ্ধের প্রতিশোধ বা ঐতিহাসিক হিসাব চুকানোর লড়াই হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ।
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বল্প সময়ের যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ এবং যুক্তরাজ্যের ২৫৫ সেনা নিহত হন। ওই দ্বীপকে আর্জেন্টিনা মালভিনাস এবং যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ড নামে চেনে। এখনো দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন।
সোমবার এক বিবৃতিতে যুদ্ধপ্রবীণদের সংগঠন জানায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি কোনো ‘সশস্ত্র পুনরায় লড়াই’ বা ‘ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ’ নয়। তারা সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়, যুদ্ধে নিহতদের স্মৃতি সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে, কিন্তু সেই স্মৃতিকে ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দ্বীপটির সার্বভৌমত্বের দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে তুলে ধরা উচিত। ফুটবলের আবেগ এবং জাতীয় দাবিকে আলাদা করে দেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা জানায়, মাঠে বল গড়াবে, দেশের প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়বে, কিন্তু স্মৃতি অটুট থাকবে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিকভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরছে।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থক ও খেলোয়াড়দের একটি গান গাইতে দেখা গেছে, যেখানে মালভিনাস দ্বীপ, দিয়েগো মারাদোনা এবং লিওনেল মেসির নাম উঠে এসেছে। তবে ম্যাচের আগে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরাও।
দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফুটবলের বাইরে অন্য কোনো বিষয় গুরুত্ব পাবে না। একই সুরে কথা বলেছেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও।
তার বলেন, এটি দুটি গর্বিত দেশের লড়াই। তবে কথা বলবে শুধু ফুটবল।