স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি, তবু গর্বিত হালান্ড

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৩, | ১১:১২:৫৯ |
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এই ম্যানসিটি স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভর করেই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠে ‘লভেন’ (দ্য লায়ন্স) দল। বাছাইপর্বে ১৬ গোল করার পর টুর্নামেন্টের মূল পর্বেও চলছিল ‘হালান্ড শো’। ২৫ বছরের এই ফুটবলারের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভর করেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। সেখানেই থেমে থাকেনি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দলটি। হালান্ডের নৈপুণ্যে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে বিদায় করে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন কোচ স্টেল সোলবাক্কেনের শিষ্যরা। শনিবার রাতে মিয়ামিতে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে হালান্ডদের স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়।

অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় নরওয়ে। এতে গোল্ডেন বুটের লড়াই থেকেও ছিটকে পড়েন টুর্নামেন্টে সাত গোল করা হালান্ড। বিশ্বকাপে হৃদয়ভাঙার গল্প লেখার ম্যাচের পর সাধারণত কোনো দলের বড় খেলোয়াড়রা সংবাদ সম্মেলনে আসেন না। হতাশায় নিজেদের আড়াল করে নেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন হালান্ড। এই সংবাদ সম্মেলন শেষে হাসিমুখেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানান ‘ভাইকিং রাজা’।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো একটি আসর ছিল। যেটা আমাকে ব্যক্তি হিসেবে বদলে দিয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, এ টুর্নামেন্টে আমার প্রোফাইলটা আরও একটু ভারী হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো আসরের অংশ হওয়া অসাধারণ অনুভূতির বিষয়। এত দিন শুধু দূর থেকেই বিশ্বকাপ আসর অনুভব করতে অভ্যস্ত ছিলাম। এবার নিজেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছি। আমি খুবই গর্ব অনুভব করছি। আর আমরা টুর্নামেন্টে যতটা ভালো করেছি, সেটা ভাবতে খুবই ভালো লাগছে। বিশ্বকাপের সাফল্যে নরওয়েতে ঐক্য ও দেশপ্রেমের সুর বেজেছে। আমাদের সঙ্গে দেশবাসীও উল্লাস ও উদযাপনে মেতেছে।’

টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন এই ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড, ‘টুর্নামেন্টে আমরা ব্রাজিলের মতো দলকে হারিয়েছি। যদিও আমরা শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছি কিন্তু জয় পেতে ইংল্যান্ডকে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। যদিও ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। ভবিষ্যতে আমরা আরও বিশ্বকাপ ও ইউরো টুর্নামেন্টে অংশ নেব। আমি মনে করি, এখন ভালো দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ আমাদের ফুটবল প্রজন্মটি অসাধারণ।’ নরওয়ের এই প্রাণভোমরা যোগ করেন, ‘বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা আবারও বিশ্বকাপ আসরে নরওয়েকে তুলে আনতে পেরেছি। এটা করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এখন থেকে আমাদের এই মান ধরে রাখতে হবে।’

হালান্ডের মতো স্ট্রাইকারদের আটকানো ইংল্যান্ডের জন্য সহজ বিষয় ছিল না। দীর্ঘদেহী এই ফুটবলারের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি গোল করার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। তাই একজনকে দিয়ে শুধু মার্কিংয়ে রেখে ‘গোল মেশিন’ হালান্ডকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য পুরো রক্ষণভাগকেই একযোগে কাজ করতে হয়েছে। যেটা মার্ক গ্রুহি ও জন স্টনসরা দারুণভাবেই করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণে পুরো ম্যাচে মাত্র দুবার গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছে। তাঁর নেওয়া দুটি হেডের মধ্যে একটি থ্রি লায়ন্স গোলরক্ষক পিকপোর্ড সেভ করেন। অন্য হেডটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ ছাড়া আটবার বল পায়ে পেয়ে সাতবার সফলভাবে পাস দিতে পেরেছেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের বিরতি চলাকালে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত হালান্ডকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ে কোচ।

নরওয়ের বিদায়ের পর হালান্ড কি এখন ইংল্যান্ডকেই সমর্থন দেবেন কিনা যে দলে তাঁর দুজন ম্যানসিটি সতীর্থ খেলছেন। এটি জানতে চাওয়া হলে হালান্ড বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলে আমার দুই ম্যানসিটি সতীর্থ খেলছেন সেটা সত্য। এ ছাড়া আমি ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠেছি এবং প্রথমে ইংল্যান্ডের শার্টেরই (জার্সি) মালিক হয়েছি। এটা আমার জন্য বিশেষ একটি দেশ। কিন্তু ফ্রান্স ও স্পেন দলেও আমার সতীর্থ আছেন।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..