✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১১, | ২০:২০:০৯ |বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে। তবে এই ম্যাচটি কেবল দুই দেশের লড়াই নয়, এটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবং আর্লিং হালান্ডের ব্যক্তিগত দ্বৈরথে। আসরের শুরু থেকেই অসাধারণ ফর্মে থাকা এই দুই গোলমেশিনকে ঘিরেই এখন সব আলো।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন নরওয়ের স্ট্রাইকার হালান্ডকে এক অদম্য ‘মেশিন’ এবং ‘বিস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেইন বলেন, হালান্ড অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড় এবং তার গোল করার ক্ষমতা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়ের কারণ।
তবে কেইন এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের খেলার ধরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেইন নিজের খেলার ধরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, তিনি কিছুটা নিচে নেমে বলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খেলতে পছন্দ করেন, যেখানে হালান্ড মূলত একজন খাঁটি গোলস্কোরার হিসেবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতেই বেশি দক্ষ। কেইনের মতে, তাদের একে অপরের সঙ্গে তুলনা না করে বরং এই দারুণ প্রতিযোগিতাকে উপভোগ করা উচিত।
অন্যদিকে নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন জানিয়েছেন, নরওয়ে দলের কাছে প্রতিটি ম্যাচই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই লড়াইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে ফিরে চমক দেখানো নরওয়ে এখন সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে। বিশেষ করে ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ায় নরওয়ের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
কোচ মনে করছেন, ইংল্যান্ডের ওপর জয়ের চাপ কিছুটা বেশি থাকলেও মাঠে যখন খেলা শুরু হবে, তখন সমানে সমান লড়াই হবে।
বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও এই দুই তারকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও আট গোল করে বর্তমানে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, তবে হালান্ড সাত গোল এবং কেন ছয় গোল করে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াই কেবল সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, এটি গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে নিজেদের এগিয়ে রাখারও এক দারুণ সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, মিয়ামির মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার হাসি ফোটে এবং কার গোলবন্যা দলকে পৌঁছে দেয় স্বপ্নের সেমিফাইনালে।