✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১১, | ২০:০৪:৫৬ |চীনকে প্রতিহত করার জন্য পেন্টাগনের প্রস্তাবিত ১২২ বিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক পরিকল্পনা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য এবং তাদের বর্তমান শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে, তা মার্কিন সামরিক কৌশলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল স্যাম পাপারো মার্কিন কংগ্রেসের কাছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, চীনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণ, তাইওয়ান ঘিরে উত্তেজনা এবং রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা মোকাবিলায় এই অর্থ ন্যূনতম প্রয়োজন।
এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ মিসাইল প্রযুক্তি, মহাকাশভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং ড্রোন তৈরির পেছনে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গুয়ামসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দ্বীপে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক মহড়া বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে সামরিক পরিকল্পনার খাতায় যা-ই থাক না কেন, বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন অস্ত্রাগারে অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া এবং শিল্প উৎপাদনের ধীরগতি এই পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণেও মার্কিন সামরিক রসদে বড় ধরনের টান পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জাপান বা ফিলিপাইনের মতো মিত্র দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখনো চীনের নির্ভুল নিশানায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের হুমকির মুখে রয়েছে। অনেক ঘাঁটিতে পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। সামরিক প্রস্তুতির এই সংকটের পাশাপাশি মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন নিয়ে বর্তমান নমনীয় কূটনীতি এবং ব্যবসায়িক সমঝোতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আগের কঠোর অবস্থানকে কিছুটা শিথিল করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যদি দ্রুত তার সামরিক শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে বেইজিং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আরও জোরদার করতে পারে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস