সর্বশেষ :

উদ তেল, জমজমের পানি ও গোলাপজল দিয়ে ধোয়া হলো পবিত্র কাবা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০১, | ১৪:২৯:৫৪ |

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মক্কার মসজিদুল হারামে সম্পন্ন হলো পবিত্র কাবা শরিফ ধৌতকরণের বার্ষিক প্রক্রিয়া। হিজরি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১৫তম দিনে প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে এই প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সাউদের পক্ষে কাবা ধৌতকরণের এই মহান দায়িত্বে নেতৃত্ব দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আব্দুল আজিজ।

কাবা শরিফ ধৌতকরণের পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে ২০ লিটার জমজমের পানির সঙ্গে ৮০ মিলিমিটার প্রিমিয়াম উদের (আগর কাঠ) তেল মিশিয়ে পবিত্রতা ও বরকতের আবহ তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে মূল ধৌতকরণের কাজ শুরু হয়, যেখানে ৫৪০ মিলিমিটার বিখ্যাত তায়েফি গোলাপ জল, ১১ লিটার বিশেষ মিশ্রণের কাবার সুগন্ধি এবং ৩ মিলিমিটার কস্তুরী ব্যবহার করে কাবার অভ্যন্তরের দেয়াল ও মেঝে পরিষ্কার করা হয়। শেষ ধাপে কাবার ভেতর সুদীর্ঘস্থায়ী সুবাস ছড়াতে ৫০০ মিলিমিটার তায়েফি গোলাপের তেল এবং ৫০০ গ্রাম প্রিমিয়াম মানের উদের কাঠ জ্বালিয়ে চারপাশ ধোঁয়ায় সুরভিত করা হয়।

পরিচ্ছন্নতার মূল কাজ শুরুর আগে কাবা শরিফের গিলাফ বা কিসওয়াহ যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য এর নিচের অংশ ও দরজার পর্দা কিছুটা ওপরে টেনে দেওয়া হয়। এরপর বিশেষ কাপড়ে জমজম ও গোলাপ জলের মিশ্রণ নিয়ে কাবার ভেতরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে ফেলা হয়। সবশেষে দেয়াল ও কোণগুলোতে উদ ও আম্বরের নির্যাস মেখে সুগন্ধিময় করে তোলা হয়। কাবার ভেতরে প্রবেশ করে এই ধৌতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই শেগুন কাঠ দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়, যা প্রায় ৫.৬৫ মিটার দীর্ঘ এবং ওজনে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কেজি। আধুনিক এই সিঁড়িতে স্বয়ংক্রিয় ব্যাটারি ব্যাকআপ, বৃষ্টির পানি ও কাবার পানি সংরক্ষণের ট্যাংক এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো চমৎকার সব প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। এর আগে জুন মাসের শুরুর দিকে সৌদি কারিগরদের দক্ষ হাতে তৈরি নতুন গিলাফ দিয়ে কাবা শরিফকে আবৃত করা হয়েছিল। 

সূত্র: খালিজ টাইমস

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..