ব্রাজিলের ইঞ্জিন গিমারেস

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৬, | ১০:০৮:৫২ |
ধীরে ধীরে রং মেলতে শুরু করেছে ব্রাজিলের হলুদ প্রজাপতিরা। সেই প্রজাপতির রঙে বহুদিন পর ব্রাজিলের চিরচেনা সুন্দর ফুটবলের কিঞ্চিৎ দেখা মিলেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিতভাবেই ‘জোগো বনিতা’ নয়, তবে এখন পর্যন্ত এবারের আসরে ব্রাজিলের সেরা খেলা সমর্থকদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। আনন্দ দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। ভূয়সী প্রশংসা হচ্ছে জোড়া গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এক গোল করা মাথেউস কুনিয়ার। ৯৮১ দিন পর হলুদ জার্সি গায়ে নেইমার মাঠে নামায় স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল শিবিরে। তবে মাঝমাঠ থেকে তাদের জন্য খেলাটা যিনি সাজিয়ে দিচ্ছেন, সেই ব্রুনো গিমারেস থাকছেন আড়ালেই।

মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু থেকেই ব্রাজিল ছিল নিখুঁত ও আত্মবিশ্বাসী। আগের দুই ম্যাচে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তারা যে ভুল পাস ও পরিকল্পনাহীনতা দেখিয়েছিল, এ ম্যাচে সেটা দেখা যায়নি। ঐক্যবদ্ধ, শান্ত ও পরিণত এক ব্রাজিলের দেখা মিলেছে স্কটিশদের বিপক্ষে। এই রূপান্তরের পেছনে অবশ্যই পুরো দলের ভূমিকা রয়েছে।

তবে মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেস ও লুকাস পাকেতার কথা আলাদাভাবে বলতেই হবে। এ দুজন জেগে ওঠায় পুরো মাঠের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ব্রাজিলের কাছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি ভিনি-কুনিয়াদের জন্য বিরামহীনভাবে বলের জোগান দিয়ে গেছেন তারা। দুজনের মধ্যে আবার বল দখল, পাসিং ও সৃষ্টিশীলতায় গিমারেস ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাঁর ক্রস থেকেই হেড করে ফাঁকা পোস্টে বল পাঠান ভিনিসিয়ুস। রিয়াল মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকারকে সচরাচর হেডে গোল করতে দেখা যায় না। সেই ভিনিও গিমারেসের নিখুঁত ক্রসের বদৌলতে হেডে জালের দেখা পেয়েছেন, যা দেখে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও অবাক হয়েছেন।

৬০ মিনিটে কুনিয়ার করা ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটির কারিগরও গিমারেস। বক্সের বাইরে থেকে বল ধরে স্কটল্যান্ডের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল সাজিয়ে দেন নিউক্যাসলের এই মিডফিল্ডার। কুনিয়া শুধু বল জালে ঠেলে দেন।

এবারের আসরে ব্রাজিলকে হটফেভারিটদের তালিকা না রাখার অন্যতম কারণ ছিল মিডফিল্ড। ক্যাসেমিরো বুড়িয়ে গেছেন। আগের সেই ধার নেই। পাকেতাও ছন্দে নেই। ভরসা ছিলেন শুধু ২৮ বছর বয়সী গিমারেস। গিমারেস কেবল প্রত্যাশাই মেটাচ্ছেন না, পাকেতা-ক্যাসেমিরোকেও ভালো খেলতে উজ্জীবিত করছেন। তাঁর নেতৃত্ব মিডফিল্ড ভালো খেলছে বলেই ব্রাজিলকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন সমর্থকরা।

রিও ডি জেনিরোর পার্শ্ববর্তী ছোট্ট শহর সাও ক্রিস্তোভাওয়ে জন্ম নেওয়া গিমারেসের বাবা ছিলেন ট্যাক্সি ড্রাইভার। তাঁর দাদা স্পেন থেকে ব্রাজিলে এসে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। দাদার সূত্রে গিমারেস স্পেনের নাগরিকও।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে অডেক্সের হয়ে ব্রাজিলের পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন তিনি। ২০১৭ সালে ব্রাজিলের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব অ্যাথলেটিকো পারানায়েন্সতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটতে থাকে। সেখানে ভালো খেলার সুবাদেই ইউরোপের ক্লাবগুলোর নজরে পড়েন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ২০ মিলিয়ন ইউরোতে ফরাসি ক্লাব লিঁওতে চার বছরের চুক্তিতে চলে আসেন। ফ্রান্সে দুই বছর কাটানোর পরই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসল ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে তাঁকে দলে ভেড়ায়। তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে নিউক্যাসল ২০৩০ সাল পর্যন্ত গিমারেসের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে। সেখানে তিনি ক্লাব ইতিহাসে রেকর্ড বার্ষিক ১৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন পেতে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..