বিশ্বকাপের মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই একাধিক রেকর্ড গড়ে ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। আর তাকে থামানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে রসিকতাই করলেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।
সোমবার গ্রুপ ‘আই’-এ ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্নল্ড মজা করে বলেন, ‘আমি জানতে চেয়েছিলাম আমরা তিনজন গোলরক্ষক নিয়ে খেলতে পারি কি না। কিন্তু তারা না বলে দিয়েছে।’
সেনেগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩-১ গোলের জয়ে দুটি গোল করেন এমবাপ্পে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড এবং স্পর্শ করেছেন জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারকে।
একই ম্যাচে ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ৫৮তম গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এবারের বিশ্বকাপে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করবেন এমবাপ্পে। এটি হবে ফ্রান্সের হয়ে তার ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এ বিষয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। জাতীয় দলের চেয়ে বড় কিছু নেই। ১০০ ম্যাচ অবশ্যই ঐতিহাসিক, আর সেটা যদি বিশ্বকাপে হয় তাহলে তো আরও বেশি।’
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৪ গোল করা এমবাপ্পের সামনে রয়েছে আরও বড় রেকর্ড। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির ১৬ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র দুই গোল দূরে।
এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে বিতর্ক—বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হয়ে উঠতে পারবেন কি এমবাপ্পে?
তবে এসব আলোচনায় খুব একটা আগ্রহ নেই ফরাসি তারকার।
‘এটা মানুষ, সাংবাদিক আর সমর্থকদের বিতর্কের বিষয়। কে সেরা, তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু আমার মাথায় এখন শুধু একটি চিন্তা—কীভাবে আগামী ম্যাচে দলকে সাহায্য করব এবং জুলাইয়ে ট্রফিটা ঘরে আনতে পারব,’ বলেন এমবাপ্পে।
এদিকে ইরাক কোচ আর্নল্ড জানিয়েছেন, ফ্রান্সকে পুরোপুরি থামানো সম্ভব নয়। তবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তার দল।
তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স কী করবে সেটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। কিন্তু নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। খেলোয়াড়রা প্রস্তুত এবং তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় তারা কী করতে পারে।’
প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে হারের পরও ইতিবাচক কারণে প্রশংসা কুড়িয়েছে ইরাক। ম্যাচ শেষে নিজেদের ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে রেখে যায় দলটি। এমনকি বোর্ডে ‘ধন্যবাদ, বোস্টন’ লিখে একটি বার্তাও রেখে আসে তারা।
আর্নল্ড বলেন, ‘তারা নিজেরাই অগোছালো করেছিল, তাই নিজেরাই পরিষ্কার করেছে। এটা আমাদের মূল্যবোধ ও সম্মানের প্রতিফলন।’
তবে ইরাকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এমবাপ্পেকে কীভাবে থামানো যায়।
এ জাতীয় আরো খবর..