নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রকে হত্যার পর কাপড়ে মুড়িয়ে মরদেহ গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তিনি মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে নানাবাড়ি একই উপজেলার বাহেরচর গ্রামে বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় পুলিশ কথিত প্রেমিকা প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা বেগম, ছোট বোন মিন্নি আক্তারসহ চারজনকে আটক করেছে। এর আগে গত শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় প্রেমিকার বাড়ি থেকে ওয়ালিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন স্কুলছাত্র ওয়ালিদ। এ ঘটনায় প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা ওয়ালিদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এরই জেরে সম্প্রতি প্রাণার বিয়ে হয় এক প্রবাসীর সঙ্গে। প্রাণা বিয়ের পরেও প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছিল।
হঠাৎ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত থেকে ওয়ালিদ নিখোঁজ হয়। তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। তবে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয় প্রেমিকা ও তার পরিবারের ওপর। পরে শনিবার রাত ১১ টার দিকে প্রাণাদের বাড়ির পেছনে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে জানতে পেরে নিখোঁজ ওয়ালিদের ছোট ভাই রোমানসহ কয়েকজন সেখানে যান এবং তার মরদেহ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওয়ালিদের প্রেমিকা প্রাণা, তার মা ও দুই বোনকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে প্রাণার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন।
