ম্যারাডোনার বিষাদের শহরে মেসিদের সামনে অস্ট্রিয়া

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২২, | ১১:০১:২৩ |

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ডোপিং পরীক্ষায় পজিটিভ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার পর ম্যারাডোনা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মে কোর্তারন লাস পিয়েরনাস’। যার অর্থ ‘তারা আমার পা কেটে নিয়েছে’। যে বাক্য তিন দশক পরও লা আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসে অপূর্ণ শোকগাথার মতো ফিরে আসে।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর সেই ডালাসেই আজ রাত ১১টায় মাঠে নামছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে এবার কটন বোল নয়, এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এ দ্বিতীয় ম্যাচের সঙ্গে ১৯৯৪ সালের সেই ডোপকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের খুব কম খেলোয়াড়ই ম্যারাডোনার সেই ট্র্যাজেডির সময় পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের মাত্র ছয়জন খেলোয়াড়ের জন্ম হয়েছিল সে ঘটনার আগে। তবে সেই বিষাদময় ইতিহাস ভোলেননি ভক্তরা। সে কারণেই গ্যালারির জন্য তারা নতুন এক গান বেঁধেছেন, যার ছত্রে ছত্রে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—ডালাসের মাটিতেই ম্যারাডোনার কাছ থেকে ‘কেড়ে নেয়া সে বিশ্বকাপের’ প্রতিশোধ নেবে ‘স্কালোনেত্তা’।

তবে ডালাসের স্মৃতি কিংবা সমর্থকদের আবেগ নয়, নিশ্চিতভাবেই স্কালোনির পরিকল্পনায় এখন শুধুই অস্ট্রিয়া। আর সেই ভাবনার কেন্দ্রে আছে দল নির্বাচন। স্কালোনি তার পুরো কোচিং ক্যারিয়ারে খুব কম সময়ই টানা দুটি ম্যাচে একই একাদশ মাঠে নামিয়েছেন। তার ৯৭ ম্যাচের পথচলায় মাত্র তিনবার তিনি আগের ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তার এ রণকৌশলের ব্যতিক্রম হচ্ছে না। 

মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এসেছে। ফলে দুই দলের এ লড়াই অনেকটাই গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণের ম্যাচে পরিণত হয়েছে। তবে স্কালোনি জানেন, অস্ট্রিয়া আলজেরিয়ার মতো প্রতিপক্ষ নয়। সহকারী কোচ পাবলো আইমারও তাই সতর্ক করে দিয়েছেন, রালফ রাংনিকের দল শারীরিকভাবে শক্তিশালী, সংগঠিত এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ।

অস্ট্রিয়াকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। জর্ডানের বিপক্ষে রাংনিকের দলের সংগঠন, শারীরিক শক্তি এবং প্রেসিং ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে তারা প্রতিপক্ষের বিল্ড-আপ নষ্ট করতে পছন্দ করে। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে ডিফেন্ডার পর্যন্ত সবাইকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। এ জায়গাটিই আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

অভিজ্ঞতা, মান এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এগিয়ে থাকছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাই। আলবিসেলেস্তেরা বর্তমানে টানা আটটি ম্যাচ জিতেছে। যার মধ্যে সাতটিতেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই তারা অন্তত তিনটি করে গোল করেছে। তবে অস্ট্রিয়ার আক্রমণভাগও গত কয়েকটি ম্যাচে বেশ ক্লিনিক্যাল ছিল। আর্জেন্টিনা যেখানে নিখুঁত পাসিং ও শর্ট পাসের মাধ্যমে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করে, সেখানে অস্ট্রিয়া চাইবে ফিজিক্যাল ট্যাকল এবং অনবরত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সেই ছন্দ নষ্ট করে দিতে। তবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের একটাই প্রত্যাশা—যে শহর একদিন ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ অধ্যায়ের বেদনাময় উপসংহার লিখেছিল, সে ডালাসের মাটিতেই আজ জাদুকরী ছন্দে গর্জে উঠুক লিওনেল মেসির বাঁ পা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..