✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৩, | ০১:২৮:০৮ |প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, সাইবার হামলা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পর এবার জাপানও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি জাপানের নবগঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা) পরিবারগুলোকে আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে রাখা, খাবার ও পানি মজুত করা এবং কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্র চিনে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
দ্য জাপান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি অন্তত তিন দিন, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের খাবার ও খাওয়ার পানি মজুত রাখার সুপারিশ করেছে। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও জরুরি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির প্রথম প্রধান গোশি হোসোনো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বড় কোনো দুর্যোগের সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। তাই নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নানকাই ট্রফে সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জাপানকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগসহনশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি নতুন এই সংস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি এই সংস্থাকে একটি ‘শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পূর্ববর্তী কাঠামোর চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৩৫২ জন কর্মী নিয়ে এই সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধারকাজ ও পুনর্গঠনের তদারকি করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগেই নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের ‘বি রেডি’ প্রচারণাতেও তিন দিনের প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জার্মানি ১০ দিন এবং নরওয়ে ও সুইডেন এক সপ্তাহের মজুতের সুপারিশ করেছে। ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের নির্দেশিকা জারি করেছে। মজুতের তালিকায় সাধারণত খাওয়ার পানি, পচনশীল নয় এমন খাবার, ওষুধ, টর্চ, ব্যাটারি, ফার্স্ট এইড কিট, নগদ অর্থ ও পাওয়ার ব্যাংক রাখার কথা বলা হয়। তবে এসব সতর্কবার্তার অর্থ এই নয় যে বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। মূলত জাপানে ভূমিকম্প থেকে শুরু করে ইউরোপে চরম আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।