✕

সর্বশেষ :
মেক্সিকোতে স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুঠোফোন, যে কারণে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আবার হামলা চালালে কীভাবে পাল্টা জবাব দেবে ইরান? দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লেই বিপদ, বিজ্ঞানীদের সতর্কতা জন্ডিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারি যে পাতার রস মিয়ানমারে প্রসূতি ক্লিনিক ও স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫ যে ৪ অভ্যাসে নষ্ট হতে পারে স্মার্টফোনের টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট দিনে কতটি কাঠবাদাম খাওয়া উপকারী? যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের পর এবার জাপানেও নাগরিকদের জরুরি খাবার মজুতের নির্দেশ ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

নীলফামারীর ডিমলায়

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, শেফালীর স্বপ্ন এবার অনার্স

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০২, | ১৪:৩৯:১৪ |

বয়স শুধু একটি সংখ্যা, সেটিই যেন প্রমাণ করলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার শেফালী বেগম (৫২)। সংসার, সন্তান ও সামাজিক দায়িত্ব সামলে এই বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। 

তবে এখানেই থামতে চান না শেফালী। এবার তার ইচ্ছে অনার্সে ভর্তি হওয়া।

শেফালী বেগমের বাড়ি ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামে। খুব অল্প বয়সেই ফুফাতো ভাই মোকছেদুল আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বামীর বাড়িতে চলে আসায় বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। এরপর সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব পালনে কেটে যায় দীর্ঘ সময়। কিন্তু পড়াশোনা করার স্বপ্নটি মনের মধ্যে ঠিকই বেঁচে ছিল।

সংসারের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন শেফালী। ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন। টানা দুই মেয়াদে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২০ সালে স্বামী ও ছেলের অনুপ্রেরণায় আবারও বই হাতে তুলে নেন শেফালী। নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন ডোমার উপজেলার গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ২৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।  

শেফালী বেগম জানান, সংসারের কাজ শেষ করে প্রতিদিন রাত ৯টার পর পড়তে বসতেন। কখনো রাত ১টা-২টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। কোনো প্রাইভেট শিক্ষক ছিলেন না। ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন। নিয়মিত পরিশ্রম ও ধৈর্যের কারণেই এই সাফল্য এসেছে।

তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা নেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই স্বামীর বাড়িতে চলে আসতে হয়। এরপর সংসার ও সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সন্তানদের সফলতা আমাকে আবার পড়াশোনা শুরু করতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এই বয়সে এসে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। এবার অনার্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।’

শেফালীর স্বামী মোকছেদুল আলম বলেন, ‘আমরা সব সময় তাকে উৎসাহ দিয়েছি। বলেছি, ভালো ফলাফল করতে হবে না, অন্তত পাস করে আসুক। পড়াশোনার জন্য যাতে সময় পান, সে জন্য সংসারের কাজেও সহযোগিতা করেছি।’

বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মায়ের এই সাফল্যে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমি ভাগ্যবান সন্তানদের একজন। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শেফালীর মেয়ে মাকছুরা খানম বলেন, ‘আমার মায়ের এই সাফল্য শুধু আমাদের পরিবারের আনন্দের নয়, এটি সমাজের সব নারী ও শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..