✕


বেড়েই চলেছে চাল-আটা-ময়দার দাম, চড়া আদা-রসুন-লেবুও

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৩, | ১৫:০৮:৩১ |

রাজধানীর বাজারে বেড়েই চলেছে পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম। পণ্যভেদে এসবের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ বেড়েছে আদা, রসুন ও লেবুর দামও। এতে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের। তাদের অভিযোগ, বাজারে যথাযথ নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও নিউমার্কেট এলাকার বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে চীনা আদার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। আগে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশি রসুনের দামও বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। জাতভেদে হালিপ্রতি লেবুর দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

আগাম শীতের সবজি উঠলেও স্বস্তি নেই

বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও সরবরাহ কম থাকায় অধিকাংশ সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও ধুন্দল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কচুমুখি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল ও বেগুনের দাম কেজিতে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এ ছাড়া পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শিমের দামও কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি শিমের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। আকারভেদে ফুলকপি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে টমেটোর দাম এখনো বেশ চড়া। প্রতি কেজি টমেটো কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা।

পোলাওর চালের দাম ২৩০ টাকা

আটা-ময়দার দামও বাড়তির দিকে। বর্তমানে বাজারে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, আগে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পোলাওর চালের দাম মানভেদে বেড়ে ১৯০ থেকে ২৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খোলা ময়দার দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডাল ও মসলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম কমলেও চড়া মুরগি-মাছ-মাংস

বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। দুই সপ্তাহ আগে খামারের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।

তবে মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামে তেমন স্বস্তি নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং জাতভেদে সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং মাঝারি ও বড় আকারের তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই মাছের দাম কেজিতে ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কিছু সবজি ও ডিমের দাম কমলেও চাল, আটা-ময়দা, আদা-রসুন, মাছ ও মাংসের চড়া দামে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..