✕

সর্বশেষ :
আমাদের হাত বেঁধে দিলে আপনাদের ক্ষতি হবে: সরকারকে নোয়াব সভাপতি মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা পুনের ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে মাসে ৪.৬৩ লাখ রুপি পাবেন রণবীর মুক্তির আগেই টিকিট বিক্রি ছাড়িয়েছে ১ কোটি , বাম্পার ওপেনিংয়ের অপেক্ষায় ‘দেশু ৭ দুর্গার সাজে পরীমনি, চোখ ফেরানো দায়! (ভিডিও) বিশ্বের ৫০ দেশের সুপারস্টারদের তালিকায় শাকিব খান মাদক অভিযানে পিস্তল হাতে ইশরাক, আইনের ব্যত্যয় হলে ‘ব্যবস্থা নেবে পুলিশ’ তিন বর্ষের সিলেবাসে হবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

আমাদের হাত বেঁধে দিলে আপনাদের ক্ষতি হবে: সরকারকে নোয়াব সভাপতি

ছবি : সংগৃহীত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৮, | ১৬:৪২:১৯ |
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার হয়। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে।'

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‌'হাত বেঁধে দিলে ‌আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।'

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠন যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। 

বৈঠকটি পরিচালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এতে অংশ নেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, অনলাইন এডিটর্স ফোরামের আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান পিন্টু, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ।

নোয়াব সভাপতি বলেন, পৃথিবীতে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। তাই আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। ক্ষমতায় থাকাকালে সমালোচনার পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও ক্ষমতা হারানোর পর একই ধরনের আইনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই অন্যায়ের শিকার হতে পারেন।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে মানবজমিন সম্পাদক বলেন, সরকারের সমালোচনা এবং সাইবার অপরাধকে আলাদাভাবে দেখতে হবে। গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের সমালোচনা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এ দুটিকে এক করে দেখলে বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়।

প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের বিধান সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

আইনের প্রয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ফোনের কারণেও কাউকে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রস্তাবিত আইনে 'ভুল তথ্য' বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়েও স্পষ্টতা চেয়েছেন নোয়াব সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেই সেটিকে ভুল তথ্য কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত সংবাদ হিসেবে দাবি করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত কে নেবেন—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সাংবাদিকদের বিচারের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন মতিউর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, 'ভেজাল ওষুধ যাঁরা তৈরি করেন, তাঁদের ধরার জন্য যে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা হয়—সেই আদালতের কাছে আপনি সাংবাদিকের বিচারের ক্ষমতা দিচ্ছেন! এইটা কী করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজে চিন্তা করা যেতে পারে?'

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আলোচনা আয়োজন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান মতিউর রহমান চৌধুরী। আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..