✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১২, | ২৩:৫১:৫৭ |

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আরব দেশগুলোর পরিচালিত একটি বিকল্প তেল পরিবহনব্যবস্থাকে সরাসরি নিশানায় নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।

দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতায় ছোট জাহাজ থেকে বড় তেলবাহী ট্যাংকারে জ্বালানি স্থানান্তরের যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটি এখন তেহরানের লক্ষ্যবস্তু।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ায় তেহরানও ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে সামরিক ও কূটনৈতিক- দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের শর্ত মানতে বাধ্য করার কথা বলছে ইরান।

রবিবার রাতে দেওয়া বক্তব্যে রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ছোট জাহাজ ব্যবহার করে তেল বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করছে। তার অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতেই এই ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজে হামলা চালাচ্ছে ইরান।

রেজাই বলেন, “আপনারা চোরাচালান করছেন। কিন্তু প্রণালিটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে, আর আমরাই এটি পরিচালনা করি।”

তার এই বক্তব্যকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রফতানি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরানের বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, বিকল্প পথে তেল পরিবহন যতই বাড়ুক, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে সরে আসতে রাজি নয় তেহরান।

ওমানের উপকূল ঘেঁষে বিকল্প তেল পরিবহন
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর ইরানের পাল্টা হামলায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি রফতানি চালু রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এতে অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) এবং অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজ সমন্বিতভাবে কাজ করে। আরব দেশগুলোর বন্দর থেকে তেল নিয়ে জাহাজগুলো ওমানের উপকূল ঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। পরে ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হয়। এভাবে বড় ট্যাংকারে তেল তুলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। কিছু ছোট জাহাজ আবার উপসাগরে ফিরে গিয়ে নতুন করে তেল সংগ্রহ করে।

হামলার ঝুঁকি কমাতে এসব জাহাজের অনেকগুলো স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণব্যবস্থা বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখে এবং রাতের অন্ধকারে চলাচল করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করা এবং চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

রবিবার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি ছেড়ে যাওয়া দুটি ট্যাংকার এবং ওমানের বন্দরনগরী সোহারসংলগ্ন নোঙর এলাকায় থাকা আরেকটি জাহাজ রয়েছে। সোহার এলাকায় জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত সপ্তাহেও কয়েকটি জাহাজ লক্ষ্য করে প্রক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। এতে ইঙ্গিত মিলছে, হামলা কেবল হরমুজ প্রণালির ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই; বিকল্প দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

অবরোধ অব্যাহত থাকলে হামলাও চলবে
ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলও নিরাপদ থাকবে না। একই সঙ্গে আরব দেশগুলোর তেল রফতানির প্রচেষ্টা ব্যাহত করতে তেহরান আরও সক্রিয় হয়েছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ভাগেই অন্তত ১৫টি জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইন্ডওয়ার্ডের লন্ডনভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সামুদ্রিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক মিশেল উইজ বকম্যানের মতে, বিকল্প পরিবহনপথটি যত বেশি কার্যকর হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা ততই কমছে। এ কারণেই দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা বাড়ছে বলে তার ধারণা।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে। বকম্যানের ভাষ্য, ওমান এই আইনি কাঠামোর আওতায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা দিয়ে সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে বিকল্প পথ চালু থাকলেও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে। ইরান যদি নিয়মিত হামলা চালায়, তাহলে জ্বালানি পরিবহনের সময়, ব্যয় ও ঝুঁকি- সবই বাড়তে পারে।

মাইন আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা?
হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইন থাকার আশঙ্কাকেও সামনে আনছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালির বিভিন্ন স্থানে মাইন পেতে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে জাহাজ চলাচল করলে গুরুতর বিপদের মুখে পড়তে পারে- এমন বার্তা দিচ্ছে আইআরজিসি।

বাহিনীটির দাবি, সপ্তাহান্তে মাইনের আঘাতে তিনটি ট্যাংকারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মাইনের আঘাতে একটি জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার দৃশ্যও প্রকাশ করেছে তারা। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে মাইন বিস্ফোরণের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।

এ ধরনের দাবির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজগুলোর ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইরানের আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দর এবং নোঙর এলাকায় থাকা ট্যাংকারগুলোকে হুমকি দিয়েছিল। ইরানি ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওই হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছিল বাহিনীটি। একই সঙ্গে দেশ দুটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ তোলে তেহরান।

সৌদি আরবকেও জড়াল তেহরান
রেজাইয়ের বক্তব্যে সৌদি আরবের নামও এসেছে। ইরানের বিধিনিষেধ এড়িয়ে তেল পরিবহনে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে সৌদি রাজধানী রিয়াদে সরাসরি হামলার হুমকি দেননি।

এমন সময় এই অভিযোগ এল, যখন ইয়েমেনের ইরানঘনিষ্ঠ হুতিদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে সৌদি আরব। ফলে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক উত্তেজনা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশকেও আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে।

রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কেবল, তথ্যকেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকায় এসব স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাড়বে অর্থনৈতিক চাপ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরতে পারেনি, উইন্ডওয়ার্ডের পরিসংখ্যানেও তার প্রতিফলন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে এই সংখ্যা ছিল ১৩৮।

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইরানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ৪৫টি জাহাজের ৮৭ শতাংশই ছিল ট্যাংকার। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জাতীয় জ্বালানি কোম্পানির জাহাজ। হামলার ৯৩ শতাংশ ঘটেছে হরমুজ প্রণালিতে। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হামলার শিকার হয়েছে বলে উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জাহাজভাড়া ব্যাপকভাবে বেড়েছে। উইন্ডওয়ার্ডের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরিশোধিত তেলের মোট ব্যয়ের মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ ছিল পরিবহন খরচ। এখন তা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় তেল কোম্পানিগুলোকে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সরকারি বা আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্যের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৫ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ব্যয়বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ পথে তেল পরিবহনে রাজি এমন ট্যাংকারের সংকট। উইন্ডওয়ার্ডের হিসাবে, বিশ্বের অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অদক্ষ ও জটিল পরিবহনব্যবস্থায় আটকে রয়েছে। ছোট জাহাজ থেকে বড় ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর, বন্দরে ও নোঙর এলাকায় হামলার আশঙ্কা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বকম্যানের ভাষায়, এর প্রভাব এক ধরনের ধারাবাহিক সংকট তৈরি করছে- যা বিভিন্ন শ্রেণির জাহাজের পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।

সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরানের দাবি, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। তবে সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চুক্তি হবে না বলে স্পষ্ট করেছে ইরান।

আন্তর্জাতিক সংকটবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারছে- এমন মূল্যায়ন থেকেই তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তাদের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ নেই।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশ্লেষণে আজিজি প্রশ্ন তুলেছেন, সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য ইরানের ওপরও ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে রাখার সক্ষমতা নিয়ে তেহরান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ছে কি না।

তাই বলা যায়- বিকল্প তেল পরিবহনব্যবস্থা উপসাগরীয় দেশগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও হামলার ঝুঁকি, বাড়তি জাহাজভাড়া এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা কাটতে দিচ্ছে না। হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রফতানিতে নয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..