✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১২, | ২৩:৩৬:৫২ |

ভারতের রাজনীতি ও প্রতিবাদের দীর্ঘদিনের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর চত্বরকে আর বিক্ষোভ বা আন্দোলনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ও জনজীবনের স্বস্তি বজায় রাখতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 

এর ফলে বহু বছর ধরে চলা ভারতের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেনা চিত্রটি পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠতে শুরু করেছে।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত এক অফিশিয়াল আদেশে যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান বা ‘ডেজিগনেটেড সাইট’ হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হাই-সিকিউরিটি জোন বা অতি সংবেদনশীল মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে নিয়মিত বিক্ষোভ ও অবস্থানের কারণে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কাজকর্মকেও ব্যাহত করত। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ওই এলাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা।

যন্তর মন্তরের পরিবর্তে নতুন করে তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে বিক্ষোভ ও গণ-আন্দোলনের জন্য চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। এই নতুন স্থানগুলো হলো—ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। খুব শিগগিরই এই নতুন তিনটি ভেন্যুতে আন্দোলন পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস বা এসওপি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

এদিকে, এই বড় সিদ্ধান্তটি এমন একসময়ে সামনে এলো, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মধ্য দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোট এবং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে বিরোধী দলগুলোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের একটি সুচিন্তিত সরকারি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিরোধী শিবির থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

অতীতে যন্তর মন্তরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষ এসে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদের মানচিত্রে এই স্থানটি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। এখন পুরোনো সেই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং শহরতলি বা নির্দিষ্ট বৃহত্তর পরিসরে নতুন ভেন্যু নির্ধারিত হওয়ায় ভবিষ্যতে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নাগরিক আন্দোলনগুলোর রূপরেখা কীভাবে বদলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..