✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৯, | ১২:২৭:১৩ |চীন থেকে ধেয়ে আসা অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাত চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়া এবং ইউরোপজুড়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের আশঙ্কার মধ্যে এই পরিস্থিতি ঠেকাতে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওই অঞ্চলের ৪৪টি শীর্ষস্থানীয় শিল্প সংস্থা। ধাতু, রাসায়নিক এবং যন্ত্রাংশ খাতের প্রতিনিধিত্বকারী এসব শিল্প জোট স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, চীনা পণ্যের এই আগ্রাসন রোধ করতে না পারলে পুরো ইউরোপের শিল্পকাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার ঠিক এক সপ্তাহ আগে শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এই আকস্মিক ও শক্তিশালী বার্তা এলো। ব্রাসেলস শীর্ষ সম্মেলনে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের মূল আলোচনার বিষয়ই থাকবে চীনের সঙ্গে দিন দিন বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতি মোড়ানো। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের মধ্যে এই বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন ১০০ কোটি ইউরোরও বেশি, যা এক ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি ঘাটতি নির্দেশ করে। এই রেকর্ড বৈষম্য নিরসনে শিল্প সংস্থাগুলো ইউরোপীয় কমিশনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যাতে হাত গুটিয়ে না বসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার সমস্ত হাতিয়ার অবিলম্বে এবং শতভাগ কার্যকরের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
শিল্প মালিক ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, শুধু সুনির্দিষ্ট কোনো শেষ পণ্যের ওপর নজর দিলেই এই সংকট কাটবে না। বরং ইইউর উচিত যেকোনো তদন্ত ও বাণিজ্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পুরো সরবরাহব্যবস্থা বা ‘ভ্যালু চেইন’ বিবেচনা করা। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, চীনা আধিপত্য ঠেকাতে গিয়ে ব্রিটেন, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের মতো ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত ইউরোপীয় অংশীদারদের ওপর যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন ও তাৎক্ষণিক শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ইউরোপীয় কমিশনে পর্যাপ্ত জনবল বৃদ্ধি এবং চীনা রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত বাজার বিকৃতি মোকাবিলায় একদম নতুন আইনি হাতিয়ার তৈরির দাবি তুলেছেন তারা।
আসন্ন ব্রাসেলস শীর্ষ সম্মেলনে ইইউর শীর্ষ নেতারা ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করবেন, যা বাণিজ্য প্রতিরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের ফল নিয়েও গুরুত্ব সহকারে কথা হবে।
কূটনৈতিক লড়াইয়ে ইউরোপ আপাতত চীনকে তাদের কিছু নির্দিষ্ট খাতের রপ্তানি কমাতে রাজি করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা হাইব্রিড গাড়ির জোয়ার ঠেকাতে বেইজিংয়ের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। আগামী দিনে ব্রাসেলস চীনা পণ্যের ওপর আরো বড় ধরনের বাণিজ্য বাধা তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: রয়টার্স