✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৮, | ১৪:৪৪:০২ |হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে ট্যাংকারে হামলার ঘটনার ধারাবাহিকতায় এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শিপিং এবং বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলোর উপাত্ত অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে গত সপ্তাহে এ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, ফলে নতুন করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সিঙ্গাপুর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত মঙ্গলবারে এ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৭টি পণ্যবাহী জাহাজ অতিক্রম করেছে। এ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাইয়ের পর এটিই একদিনে সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের রেকর্ড। এ বিষয়ে কেপলারের বিশ্লেষক ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো এবং ইউই তোরিকাতা গত ৬ অক্টোবরের এক নোটে উল্লেখ করেন যে, এর আগের সপ্তাহের যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ পরিমাণের তুলনায় প্রণালিটি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন ২৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০.১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। এই পরিমাণটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের গড়ের কাছাকাছি হলেও যুদ্ধপূর্ব সাধারণ সময়ের মাত্র ৭৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ চলাচলের এই বড় ধরনের পতানের পেছনে মূল কারণ ছিল ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে (এসটিএস) পণ্য স্থানান্তরের কাজ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া, যেখানে সাধারণত একটি ট্যাংকার থেকে অন্য ট্যাংকারে কার্গো আদান-প্রদান করা হয়। তবে ওমান উপসাগরীয় উপকূল এবং লোহিত সাগর থেকে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে প্রতিদিন ৬.৭ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবাহ কমে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব সময়ের সমপর্যায়ে বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
ক্যাপলারের উপাত্ত অনুযায়ী, গত বুধবারে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সামান্য বেড়ে ১০টিতে পৌঁছালেও তা রবি ও সোমবারের দৈনিক ২০টির বেশি জাহাজ চলাচলের তুলানায় বেশ কম। এমনকি গত দুই দিনে প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেয়ে প্রবেশের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। উল্লেখ্য, যেসব জাহাজ সনাক্তকরণ এড়াতে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বা এআইএস ট্রানসপন্ডার বন্ধ রেখে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, সেগুলো এই গণনার বাইরে রাখা হয়েছে।
অন্যদিক এলএসইজি-এর সার্বিক জলযান পারাপারের তথ্যে দেখা যায়, মঙ্গলবারে মাত্র ৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা প্রবেশ ও প্রস্থানের দিক থেকে সমান দুটি ভাগে বিভক্ত এবং এটি পূর্ববর্তী দিনের ১৪টি জাহাজের তুলনায় দৃশ্যমানভাবেই কম। এসব জাহাজের মধ্যে পাঁচটি তেল ট্যাংকার এবং অপরটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বহনকারী ট্যাংকার 'আল-মাফইয়ার', যা কাতারের রাস লাফান থেকে জ্বালানি লোড করে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা সূত্রগুলোর মতে, গালফ বা উপসাগরীয় তেল উৎপাদক দেশগুলো যখন রপ্তানি জোরদার করার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়া ট্যাংকারগুলোতে হামলা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যে কোনো সপ্তাহের তুলনায় সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যায়। যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও এজেন্সির তথ্যমতে, সবশেষ একটি ঘটনায় কাতারের মাদিনাত আশ শামালের ৫১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বৃহৎ বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত, যার মধ্যে তেল ট্যাংকার, গ্যাস কেরিয়ার, বাল্কার এবং কনটেইনার জাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত কার্গো বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ মেটাত।
সূত্র: আরব নিউজ