✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৪, | ০২:০১:০০ |ইসলামে জুমার দিনটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে মুসলমানরা জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নেক আমল করার চেষ্টা করেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, আগে মসজিদে পৌঁছানো এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এসব আমলের কথা আমরা কমবেশি জানি। তবে জুমার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে আমাদের মনেই থাকে না। সেটি হলো রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
হাদিসে জুমার দিনে দরুদ পাঠের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭)
জুমার দিনে দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত
জুমার দিনকে কেন্দ্র করে দরুদ পাঠের ব্যাপারে আরও একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১০৮৫)
তাই জুমার দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় দরুদের জন্য রাখা যেতে পারে। অল্প সময়ের এই ইবাদত একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর রহমত ও সওয়াব অর্জনের একটি সুন্দর সুযোগ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু করা যায়
ইসলামি হিসাব অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর নতুন দিন শুরু হয়। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার পর থেকেই জুমার রাত শুরু হয়ে যায়। ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই দরুদ পাঠ শুরু করা যায় এবং শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়া যায়। দরুদ পাঠের জন্য জুমার দিনে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব দরুদ পাঠ করতে পারেন।
একবার দরুদ পাঠে মিলবে দশ রহমত
দরুদ পাঠের ফজিলত শুধু জুমার দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যেকোনো সময় দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)
অর্থাৎ, জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের পাশাপাশি সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও এই আমল করার সুযোগ রয়েছে।
কোন দরুদ পড়বেন?
দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট বাক্যই পড়তে হবে এমন নয়। নামাজের শেষ বৈঠকে পড়া দরুদে ইবরাহিম ছাড়াও হাদিসে বর্ণিত অন্যান্য সহিহ দরুদ পড়া যায়।
এ আমলের জন্য আলাদা কোনো স্থান বা নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। অবসর সময়ে, চলার পথে কিংবা দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেও দরুদ পাঠ করা সম্ভব। তবে দরুদ পড়তে গিয়ে যেন নামাজ, খুতবা শোনা বা অন্য কোনো ফরজ দায়িত্বে অবহেলা না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
জুমার দিনে আরও যেসব আমল করা যায়
জুমার দিনের প্রধান ফরজ হলো জুমার নামাজ আদায় করা। এর পাশাপাশি আগে মসজিদে যাওয়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সুরা কাহফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দোয়া করা এবং দরুদ পাঠের মতো নেক আমল করা যায়।
সপ্তাহের এই মর্যাদাপূর্ণ দিনটিতে তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বেশি বেশি ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে সময় কাটানোর চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে সুযোগ পেলেই প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে জুমার দিনটিকে আরও বরকতময় করে তোলা যেতে পারে।