প্রায় ৮ বছর পর বুধ গ্রহে পৌঁছাতে শুরু করেছে মহাকাশ মিশন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৪, | ০১:৪৮:০৭ |

সৌরজগতের সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা গ্রহটির অজানা রহস্য উন্মোচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। দীর্ঘ এক মহাজাগতিক যাত্রা শেষে অবশেষে নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে একটি উচ্চাভিলাষী মহাকাশ মিশন।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) এবং জাপানের জেএএক্সএ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই মিশনের নাম ‘বেপিকোলম্বো’। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ফ্রেঞ্চ গায়ানার স্পেসপোর্ট থেকে এটি যাত্রা শুরু করেছিল। ইতালীয় প্রকৌশলী ও গণিতবিদ জিউসেপ ‘বেপি’ কলম্বোর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। গত প্রায় আট বছরে যানটি পাড়ি দিয়েছে ৬০০ কোটিরও বেশি মাইল পথ!

সরাসরি গেলে বুধে আরও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হতো। কিন্তু যানটিকে বুধের কক্ষপথে নিখুঁতভাবে স্থাপন করতে এর গতিকে গ্রহের গতির সাথে মেলাতে হয়েছে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। এছাড়া সূর্যের এত কাছে থাকায় গ্রহটির তাপমাত্রা দিনের বেলায় প্রায় ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। এই চরম প্রতিকূল ও উত্তপ্ত পরিবেশ মোকাবিলা করেই যানটিকে টিকে থাকতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মিশনটির একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এদিন মূল যান থেকে ‘ট্রান্সফার মডিউল’ আলাদা হয়ে যাবে। এরপর আগামী ২১ নভেম্বর ইএসএ-এর ‘এমপিও’ এবং জাপানের ‘এমআইও’ নামের অরবিটার দুটি বুধের মহাকর্ষীয় টানে গ্রহটির কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

সব ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিলে অরবিটার দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের বৈজ্ঞানিক কাজ শুরু করবে। এদের সাহায্যে গ্রহটির গঠন, পৃষ্ঠের অদ্ভুত গহ্বর বা ‘হলোজ’ এবং আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও বুধ গ্রহ কেন এত বেশি ঘন—বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সেসব প্রাচীন রহস্যের সুস্পষ্ট উত্তর খুঁজবেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..