✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৪, | ০১:৪৯:১৩ |লৌহ যুগের দুর্ধর্ষ যাযাবর যোদ্ধা তারা। ঘোড়ার পিঠে চড়ে দাপিয়ে বেড়াতেন বিস্তীর্ণ প্রান্তর। মৃত্যুর পরও তাদের রাজকীয় মর্যাদা বোঝাতে দেওয়া হতো বিপুল ধনসম্পদসহ জমকালো সমাধি। এই সিথিয়ান অভিজাতদের মধ্যেই সবচেয়ে রহস্যময় চরিত্র ছিলেন ‘গোল্ডেন ম্যান’। দীর্ঘদিনের জল্পনার পর অবশেষে প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই রহস্যময় ব্যক্তির পরিচয় এবং তৎকালীন সমাজের চমকপ্রদ তথ্য আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।
১৯৬৯ সালে কাজাখস্তানে ‘গোল্ডেন ম্যান’-এর সমাধি বা কুরগানটি আবিষ্কৃত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ থেকে ৩০০ অব্দের ওই সমাধিতে ৪ হাজারের বেশি সোনার অলংকার ও অস্ত্র পাওয়া যায়। নাম ‘গোল্ডেন ম্যান’ হলেও তিনি নারী নাকি পুরুষ, তা নিয়ে এতদিন সংশয় ছিল। সম্প্রতি ৮৫ জনের ডিএনএ গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, তিনি জন্মগতভাবেই পুরুষ ছিলেন এবং ‘সাকা’ নামের একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদলের সদস্য ছিলেন।
গবেষণাটি বলছে, সেসময় ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বংশপরম্পরায় হস্তান্তরিত হতো। কারণ, প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের দুটি ভিন্ন স্থানে এক অভিজাত দাদা ও তার মাত্র এক বছর বয়সী নাতির জমকালো সমাধির প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যোগ্যতার বদলে কেবল জন্মসূত্রেই যে রাজকীয় মর্যাদা মিলত, এক বছরের শিশুর ওই সমাধিই তার বড় প্রমাণ।
পাশাপাশি, সিথিয়ান সমাজে নারীরাও ব্যাপক ক্ষমতা ও সম্মানের অধিকারী ছিলেন। গবেষণায় প্রাপ্ত ৩৮ জন অভিজাতের প্রায় অর্ধেকই নারী। এদের মধ্যে ‘প্রিন্সেস অব উরদজার’-এর সমাধিতেও ‘গোল্ডেন ম্যান’-এর মতো জমকালো সোনার মুকুট পাওয়া গেছে। এটা ওই সমাজে তাদের শক্তিশালী অবস্থানেরই স্পষ্ট প্রমাণ দেয়।