✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২০, | ১৪:৩৫:০৭ |গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান। এর আগে বুধবার বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারির ছেলে তিন সহোদর আবদুল হালিম (৩৯), আবদুল হামিদ (৩৭) ও মাহাবুর রহমান (৩৫)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) গ্রামে আসামিরা বিরোধপূর্ণ একটি জমির আইল কাটতে গেলে তাদের বাধা দেন ওয়ারিশ শাহাদাৎ হোসেন ও তার স্বজনরা। এ সময় আসামিদের কোদাল ও লাঠির আঘাতে শাহাদাৎ হোসেন, সাজেদা বেগম, সামছুল হক ও আবেদা বেগম গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শাহাদাৎ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরদিন ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের স্বজন আতাউর রহমান সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার বিকেলে এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, মামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।