✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৩, | ১৩:৩১:৪২ |ভারতে প্রস্তাবিত নতুন কয়লাখনির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী কয়লা উৎপাদনের প্রবণতায় বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি এসেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জীবাশ্ম জ্বালানিটির চাহিদা যখন ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী নতুন কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধির এই উদ্যোগ বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে ধরেছে। এনজিও সংস্থা 'গ্লোবাল এনার্জি মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল গত বছরই বিশ্বজুড়ে এমন সব নতুন কয়লাখনি প্রকল্পের প্রস্তাব সামনে এসেছে, যা থেকে বার্ষিক ২৫০ কোটি টন অতিরিক্ত কয়লা উত্তোলন সম্ভব। এটি এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।
আন্তর্জাতিক স্তরে কয়লাখনি খোলার গতি কিছুটা কমলেও এই বৈশ্বিক বাড়বাড়ন্তের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ভারত।
ভারতের এই নতুন প্রস্তাবনার মূলে রয়েছে দেশটির ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা রাজ্য। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং চরম দাবদাহের কারণে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারতের কয়লা মন্ত্রণালয় নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই দুটি রাজ্য নতুন কয়লাখনি খননের প্রস্তাব প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে। জলবায়ু সংকটের ফলে ভারতে তাপদাহের মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত তাদের কয়লা উত্তোলন প্রায় ১০ কোটি টন বাড়িয়ে মোট ১১৫ কোটি টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
তবে বিশ্বজুড়ে যখন কয়লার ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ার স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ঠিক সে সময় ভারতের কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর উদ্যোগ নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মহামারি পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে নতুন কয়লাখনির কাজ কিছুটা ধীরগতির হলেও বর্তমানে তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কয়লাখনি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে চালুকৃত নতুন খনিগুলো থেকে উত্তোলন ক্ষমতা ছিল প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ টন, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম। সেই সাথে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। চীন ও অস্ট্রেলিয়ায় নতুন খনি চালুর গতি যথাক্রমে ৪৪ শতাংশ ও ৯৬ শতাংশ কমে যাওয়াই বৈশ্বিক পর্যায়ে এই পতনের মূল কারণ।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এই দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বে কয়লার চাহিদায় স্পষ্ট মন্দা দেখা দেবে। গ্লোবাল এনার্জি মনিটর সতর্ক করে বলেছে, ভারতের নতুন খনি তৈরির আগ্রহ এই আন্তর্জাতিক পূর্বাভাসের পুরোপুরি বিপরীত। যদিও পরিস্থিতি পুরোপুরি একমুখী নয়। থিঙ্কট্যাঙ্ক 'এমবার'-এর অন্য একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ প্রথমবারের মতো কয়লাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা জলবায়ু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। আশ্চর্যজনকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি থাকলেও এই নবায়নযোগ্য শক্তি চালুর প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছে চীন ও ভারত নিজেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের পরিষ্কার শক্তি যেভাবে কয়লাকে প্রতিস্থাপিত করছে, তাতে কয়লাখনির সম্প্রসারণ অর্থনৈতিকভাবে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রকল্পগুলো নির্মাণ পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সরকারের উচিত উন্নয়ন পর্যায় থাকা এসব খনি কার্যক্রম বাতিল করে দীর্ঘমেয়াদী কয়লা উৎপাদন থেকে সরে আসা।
সূত্র: গার্ডিয়ান