✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-৩০, | ১৮:৩৭:৫৫ |টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করতে আর মাত্র পাঁচটি উইকেট প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজলউডের। তবে আগামী ১২ মাসে ২১টি টেস্ট ম্যাচের ঠাসা সূচির সামনে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই ফাস্ট বোলার।
বৃহস্পতিবার(৩০ জুলাই) অস্ট্রেলিয়ার ট্রেনিং ক্যাম্প চলাকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। হ্যামস্ট্রিং এবং পেশির চোটের কারণে প্রায় দেড় বছরের মতো টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন হ্যাজলউড। এমনকি ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজও খেলতে পারেন নি তিনি। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার মাঠে নামার কথা রয়েছে।
ডারউইনে হ্যাজলউড ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সেই সব কিংবদন্তি ফাস্ট বোলারদের অভিজাত তালিকায় যুক্ত হবেন যারা অতীতে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। যেমন ডেনিস লিলি, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্স। তবে হ্যাজলউড জোর দিয়েছেন, ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরই অস্ট্রেলিয়ার মূল বোলিং আক্রমণের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
তিনি বলেন, আমার মনে হয়, খেলাধুলার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের দিকে খুব বেশি তাকালে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। আমি সবসময়ই বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়েছি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি ঠিক সেভাবেই এগোচ্ছি, ধাপে ধাপে লক্ষ্য পূরণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ওয়ার্কলোড বা অনুশীলনের মাত্রা ঠিক রাখছি। আগামী সপ্তাহে আরেকটি ধাপ পার করব; এরপর সেসব শেষ হলে তবেই ডারউইনের কথা ভাবব। তাই বাকি সবকিছু নিয়ে এখনই ভাবার সময় আসেনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী এগোতে চাই।
এই ফাস্ট বোলার আরও বলেন, আমাদের এই দলটি নেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলছে, অন্তত দলের মূল অংশটি তো বটেই। ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজগুলো নিঃসন্দেহে অনেক বড়। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও আমি কখনো জিতিনি, তাই সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। শুধু আমার জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই সেখানে কিছু লক্ষ্য পূরণ করার বিষয় রয়েছে।
নিজের পরিকল্পনার তিনি আরও বলেন, প্রস্তুতির সময় এমনকি এর আগের মাসগুলোতেও এই বিষয়গুলোই আমাদের মনের কোণে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ এবং সবগুলোই প্রতিপক্ষের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে; তাই লড়াইটা কঠিন হবে। আশা করি আমরা সফল হব।
আগামী এক বছর অজিদের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। এ সময়ে কাজের চাপ সামলানো যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তখন হ্যাজলউড তার সতীর্থ ফাস্ট বোলার স্কট বোল্যান্ডের সঙ্গে খেলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। অ্যাশেজ সিরিজে তার অনুপস্থিতিতে বোল্যান্ড দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন।
তিনি বলেন, আমি স্কটির সঙ্গে আরও বেশি খেলতে চাই। আমাদের বোলিং শৈলীতে কিছুটা মিল থাকলেও, আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে অনেক পার্থক্যও রয়েছে। যখনই সে দলে সুযোগ পেয়েছে, অবিশ্বাস্য ভালো খেলেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। আমার মনে হয়, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে আমাদের একসঙ্গে প্রচুর ক্রিকেট খেলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে; তাই এই লক্ষ্যটি পূরণ করাটা দারুণ ব্যাপার হবে।
ব্রিসবেনের ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে টেস্ট ম্যাচের মতো কাজের চাপ সামলানোর উপযোগী অনুশীলনে গত কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর, লাল বলের ক্রিকেটের জন্য নিজের সতর্ক প্রস্তুতির বিষয়ে হ্যাজলউড আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম। মূলত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবারের মতো দিনগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলন চলেছে, যার ফাঁকে ফাঁকে অন্যান্য কার্যক্রমও ছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে আমরা টানা কয়েক দিন অনুশীলন করেছি এবং আগামী সপ্তাহেও সম্ভবত টানা কয়েক দিন অনুশীলন করব।
অন্যান্য টেস্ট সিরিজ বা ম্যাচের আগে সাধারণত টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলা এবং ভ্রমণের ব্যস্ততা থাকে। ফলে বোলিং সেশনগুলোর জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এবারের প্রস্তুতিটা যেন জশ হ্যাজলউডের জন্য বেশ কাজ দিয়েছে। তাই নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পুরো সময়টা তিনি কাজে লাগিয়েছেন।