✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-৩০, | ১৭:২৮:১৭ |চরম তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে, ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত ‘A Livable Future: Protecting Jobs and Growth from Extreme Heat in South Asia’s Cities’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হবে। তবে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৫২ কোটি মানুষ প্রতিবছর অন্তত এক মাস বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে পারে। বর্তমানের তুলনায় এ সংখ্যা চার গুণ বেশি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, অতিরিক্ত তাপ ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, বয়স্ক এবং শিশুদের ওপর।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, জীবিকা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার ভাষায়, তাপসহনশীল শহর গড়ে তোলা শুধু মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্যও জরুরি।
প্রতিবেদনটিতে তাপপ্রবাহকে কেবল মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ জন্য নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি নীতি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাপসহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, ‘Heat Action Plan’ আরও শক্তিশালী করা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, টেকসই শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যেই হিট অ্যাকশন প্ল্যান, নগর সবুজায়ন, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সহনশীল অবকাঠামো এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী কুলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সমন্বিত নীতি এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে এখন নেয়া নীতিগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতেও শহরগুলো কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে থাকবে, নাকি ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।