কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীর নষ্ট দাঁত রেখে সুস্থ দাঁত তোলার অভিযোগ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৭, | ২০:১০:৩৫ |

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে এক রোগীর নষ্ট দাঁতের পরিবর্তে সুস্থ দাঁত তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দাবি, রোগীর নষ্ট দুটি দাঁতের মধ্যে একটি দাঁতই অপসারণ করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং চিকিৎসা-নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা আনোয়ারা খাতুন কল্পনা জানান, গত ১ জুলাই তীব্র দাঁতের ব্যথা নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. শারমিন জাহান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তার একটি দাঁতে বড় ধরনের ক্ষয় (ক্যাভিটি) হয়েছে এবং দাঁতটি অপসারণ ছাড়া কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ নেই। পরে তাকে ১২ জুলাই হাসপাতালে এসে দাঁত অপসারণের জন্য তারিখ দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্ধারিত দিনে দাঁত অপসারণের পরও আনোয়ারা খাতুনের ব্যথা কমেনি; বরং আরও বেড়ে যায়। দুই দিন পর তিনি অন্য এক দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই চিকিৎসক জানান, যে দাঁতটি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল সেটি অক্ষত রয়েছে, অথচ পাশের একটি সম্পূর্ণ সুস্থ দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে।

রোগীর ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান কাজল বলেন, দাঁত অপসারণের দিন অপারেশন কক্ষের দায়িত্বে ছিলেন ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার পাল। কিন্তু তিনি অপারেশন কক্ষে না থেকে তার সহকারীকে দিয়ে একের পর এক রোগীর দাঁত অপসারণ করান।

তার ভাষ্য, আমার মায়ের অস্ত্রোপচারের আগে ডা. চন্দন কুমার পাল মাত্র এক মিনিটের মতো অপারেশন কক্ষে ছিলেন। এরপর তিনি পাশের কক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় তার সহকারী কোনো চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই রোগীদের দাঁত অপসারণ করেন। বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বললে তিনি বলেন, কোনো সমস্যা নেই, আমার সহকারীই করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের পরও মায়ের ব্যথা না কমায় আমরা অন্য চিকিৎসকের কাছে যাই। তখন জানতে পারি, যে দাঁতটি তোলার কথা ছিল সেটি রয়ে গেছে, আর পাশের সুস্থ দাঁতটি তুলে ফেলা হয়েছে। এটি শুধু চিকিৎসাগত ভুল নয়, একজন রোগীর প্রতি চরম অবহেলার উদাহরণ।

আসাদুজ্জামান কাজল বলেন, আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তাহলে সাধারণ রোগীরা কী ধরনের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যায়।

অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার পাল বলেন, দাঁত তোলার দায়িত্ব সার্জনের ওপর থাকে। সার্জন ও তার সহকারীরা দাঁত অপসারণ করেন। বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব তত্ত্বাবধান করা। ভুক্তভোগী রোগীর দুটি দাঁত নষ্ট ছিল। একই দিনে দুটি দাঁত তোলা সম্ভব না হওয়ায় একটি দাঁত তোলা হয়েছে। অপর নষ্ট দাঁতটি পরে অপসারণের জন্য বলা হয়েছিল। বিষয়টি না বুঝেই তারা অভিযোগ করছেন। এরপরও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. চন্দন কুমার পাল ভুক্তভোগী পরিবারকে আগামী শনিবার রোগীকে নিয়ে আসতে বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। 

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..