ফের খাইবার শেকান বের করল ইরান, জর্ডান-বাহরাইনে হামলা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৪:৪৪:২৬ |

ফের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি, তাদের নিখুঁত অপারেশনে মার্কিন বিমান ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, রাডার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তাদের উন্নত 'খাইবার-শেকান' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই সুনির্দিষ্ট হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গার এবং পশ্চিম এশিয়ার একটি নতুন মার্কিন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে। হামলার পর জর্ডানের জনগণের উদ্দেশে সরাসরি এক বার্তায় আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন ও জায়নবাদীদের অপরাধের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী জর্ডানের জনগণ। তারা যেন নিজেদের পবিত্র ভূমিকে এই অপরাধীদের আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করতে না দেন এবং মার্কিন স্বার্থের ওপর সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত হানেন।

একই সাথে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী। 'অপারেশন ট্রু নাসর ২' এর দশম তরঙ্গের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এতে মার্কিন বাহিনীর আকাশসীমা নজরদারি ও রাডার ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানের জ্বালানি পাম্পিং স্টেশন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ইরানের ইলাম প্রদেশে একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ও বেসামরিক পানীয় জল উৎপাদন কেন্দ্রে মার্কিন হামলার জবাবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এই অভিযান এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

এর আগে কুয়েতেও মার্কিন ঘাঁটিতে সফল হামলার দাবি করেছিল ইরান। কুয়েতের জনগণের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইআরজিসি বলেছে, তাদের এই লড়াই কুয়েতের মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে চার মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, এটি তারই জবাব।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ইরানের বন্দর আব্বাস, রাসক, কোনারাক, আহভাজ এবং কেশম দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর এই সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এর জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। 

সূত্র: আল মায়াদিন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..