✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৫, | ১৮:২৭:৪৯ |বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকার স্টেডিয়াম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত এই স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল।
তিনি ম্যাচটি জয়ের মধ্যে দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার(৪ জুলাই) মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর পর সফরকারী দলটি পুমাস উনামের কান্তেরা কমপ্লেক্সে অনুশীলন করেছে। স্থানীয় দর্শকদের প্রবল সমর্থনের মুখে অপরাজিত মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে, তারা সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
সাংবাদিকদের টুখেল বলেন, আমরা একটি আইকনিক স্থান ও আইকনিক স্টেডিয়ামে আছি। আজতেকায় মেক্সিকোর বিপক্ষে এটি একটি বিশাল ম্যাচ, একটি নকআউট লড়াই। এটি একটি স্মরণীয় ম্যাচ ও বড় মঞ্চ। আমরা সেই আবহ অনুভব করছি।
এ ম্যাচের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল মেক্সিকো সিটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২০০ মিটার উচ্চতার বিষয়টি। কারণ রাউন্ড-অফ-৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয়ের পর রবিবারের ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড দল প্রস্তুতির জন্য মাত্র চার দিন সময় পেয়েছিল।
তবে সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ১৫ মিনিটের অনুশীলনের সময় ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের প্রথম অনুশীলনের সময় সেখানকার পরিবেশগত পরিস্থিতির বিষয়টি টুখেল স্বীকার করলেও জোর দিয়ে বলেছেন, তার খেলোয়াড়রা একে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
সাবেক এই জার্মান কোচ বলেন, অনুশীলনের শুরুর কয়েক মিনিট খেলোয়াড়রা বিষয়টি অনুভব করেছিল, তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা পরিস্থিতি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছিল। পরিস্থিতি যেমন, তেমনই মেনে নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমি কোনো বৈরী পরিবেশের আশঙ্কা করছি না। আমার মনে হয় পরিবেশটা আবেগপূর্ণ হবে এবং স্বাগতিক দলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন থাকবে। উচ্চতা বা স্থানীয় দর্শক পরিস্থিতি যেমন, তেমনই থাকবে। আমাদের বাধাগুলো জয় করতে হবে। তবে এসব কাটিয়ে ওঠার মতো মানসিক শক্তি, প্রতিশ্রুতি, অদম্য ইচ্ছা এবং দলের মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধন প্রয়োজন তা আমাদের রয়েছে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের জন্য ইংল্যান্ড দল ‘আজতেকা’ স্টেডিয়ামে ফিরছে। সেই ম্যাচটি মূলত ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল এবং পরবর্তীতে ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে কোনো ‘অসমাপ্ত কাজ’ বা প্রতিশোধের বিষয় জড়িয়ে আছে এমন ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন টুখেল। তিনি বলেন, আমরা এখানে প্রতিশোধ নিতে আসিনি। আমরা এসেছি নিজেদের নতুন অধ্যায় রচনা করতে। দলের মনোবল চাঙ্গা এবং আমরা আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।