✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৫, | ১৮:০১:৩৫ |মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি গুলি ৫৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছিলেন মন্নাস আলী। অবশেষে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিঠ থেকে বের করা হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর সেই বুলেট। ৭৫ বছর বয়সী এই মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী এতদিন তীব্র দারিদ্র্যের কারণে অস্ত্রোপচার করাতে পারেননি।
গতকাল শনিবার নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার অপারেশন করা হয়।
চিকিৎসক, স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে গুলি নিয়ে ঘুরছিলেন মন্নাস আলী। যন্ত্রণা আর ব্যথার পর অবশেষে চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় মুক্তি মিলেছে। পিঠে তীব্র ব্যথায় গত দুদিন আগে চিকিৎসা নিতে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে এক্সরে করলে একটি বস্তুর আটকে থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে দ্রুত ওই হাসপাতালেই অপারেশন করানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সরকারি সেবা ছাড়া কোনো উপায় না থাকায় তারা এখানেই অপারেশন করান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি মিলিটারিরা দুর্গাপুরে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় হাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ওই ক্যাম্পের তিন মিলিটারিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়। এরপর ওই হত্যার প্রতিশোধ নিতে পাকবাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায়। নির্বিচারে মানুষদের হত্যা করে। বাড়ি ঘরে আগুন দেয়। সেদিন মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণে অনেকেই দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। মন্নাস আলীও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। তবে পালানোর সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তখন চিকিৎসা করাতে পারেননি। এরপরেও দারিদ্রতার কারণে এতোদিন চিকিৎসা হয়নি।
মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বেশির ভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় আমার বাবার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে।’
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, স্থানীয় মোশারফ নামের একজন মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘টাকার অভাবে তিনি এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও তিন থেকে চারদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।’