জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৫, | ১৩:৩৭:১৫ |

জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৫৬১ জন।

নিহতের মধ্যে নারী ৪৪ ও শিশু ৫৬। একই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে।

২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছে।

নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছে ৫৭ জন, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন (৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২৭ জন (৬ দশমিক ১৬ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ৩৭ জন (৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১৪ জন (৩ দশমিক ১৯ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১১২ জন (২৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১৫ জন (৩ দশমিক ৪২ শতাংশ) এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন (১ দশমিক ৮২ শতাংশ) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, প্রাণহানি ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, প্রাণহানি ২৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রাণহানি  দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৫ দশমিক ০২ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ০২ শতাংশ, প্রাণহানি ঘটেছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ
১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. ত্রুটিপূর্ণ সড়ক; ৩. বেপরোয়া গতি; ৪. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৫. বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৬. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৭. তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভিং; ৮. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৯. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ১০. বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি; এবং ১১. গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ
দুর্ঘটনা রোধে ১২ দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এই কাউন্সিলের অধীনে বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ পরিচালনা এবং কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ’র ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।

এছাড়াও, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা; সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার; রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু; বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবহন সেবা উন্নত করে সরকারের পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো; দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করে তাদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; স্বল্প গতির ছোট যানবাহনের জন্য সকল মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ-সহ নিরাপদ রোড ডিজাইন করা; সব রেল ক্রসিংয়ে গেইট-কীপার নিয়োগ করা; সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা; প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ, তারা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

টেকসই পরিবহন কৌশলের অধীনে সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। এতে করে সমন্বিত, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..