ইভি বা পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বরগিনি।
এর পরিবর্তে কোম্পানিটি এখন গ্যাস-বিদ্যুতের সমন্বয়ে তৈরি হাইব্রিড গাড়ির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। নতুন এ কৌশলের অংশ হিসেবে ল্যাম্বরগিনি জনপ্রিয় ‘উরুস’ এসইউভি মডেলের একটি নতুন হাইব্রিড সংস্করণ বাজারে এনেছে। ইতালীয় বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ‘উরুস এসই পারফরম্যান্ট’ নামের নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার এসইউভি হিসেবে দাবি করছে কোম্পানিটি।
ল্যাম্বরগিনির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানের সাধারণ উরুস মডেলগুলোর তুলনায় নতুন এসইউভির বাহ্যিক নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ডিজাইন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। গাড়িটিতে রয়েছে বড় আকারের গ্রিল ও উন্নত হুড স্কুপ। পাশাপাশি গাড়ির ভেতরের অংশেও বেশকিছু আধুনিক ও আরামদায়ক পরিবর্তন এসেছে।
গতি ও সক্ষমতার দিক থেকে গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে ৩ দশমিক ৩ সেকেন্ড সময় নেয়। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩১২ কিলোমিটার। ফলে এসইউভিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার এসইউভি হিসেবে বর্ণনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি একটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (পিএইচইভি)। এর মানে গাড়িটিতে একটি শক্তিশালী জ্বালানিচালিত ইঞ্জিনের পাশাপাশি একটি বিদ্যুচ্চালিত মোটর ও ব্যাটারি প্যাক রয়েছে।
ব্যাটারিটি বাইরে থেকে প্লাগের মাধ্যমে চার্জ করা যায়। পাশাপাশি গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি চার লিটারের টুইন-টার্বো ভি-৮ ইঞ্জিন। ইঞ্জিন ও ইলেকট্রিক মোটরের সম্মিলিত শক্তিতে গাড়িটি ৮১২ হর্সপাওয়ার ও প্রায় ৭৩৮ ফুট-পাউন্ড টর্ক উৎপাদন করতে পারে।
ল্যাম্বরগিনির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টিফান উইঙ্কেলম্যান বলেন, ‘নতুন মডেলটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি অটোমোবাইল বাজারে একটি বড় পরিবর্তন বা গেম চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হবে।’" ফক্সওয়াগন এজির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি এখনো নতুন গাড়িটির সঠিক দাম ঘোষণা করেনি। ল্যাম্বরগিনি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গাড়িটি সরবরাহ করার কাছাকাছি সময় এর চূড়ান্ত মূল্য প্রকাশ করা হবে। তবে ২০২৬ সালের উরুস এসই সিরিজের মূল্য প্রায় আড়াই লাখ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা বাজার বিশ্লেষকদের।
প্রায় এক দশক আগে বাজারে আসার পর থেকে উরুস মডেলটি ল্যাম্বরগিনির ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোম্পানির মোট বৈশ্বিক বিক্রীত প্রায় ৫০ শতাংশই আসে এ মডেল থেকে। উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্বজুড়ে ল্যাম্বরগিনির মোট বিক্রি প্রায় ১১ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।
খবর সিএনবিসি
এ জাতীয় আরো খবর..