আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব চুলে বেশ ভালোভাবেই পড়ে। এসময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় চুল বেশি ঝরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চুল পড়ার জন্য শুধু আবহাওয়া দায়ী নয়; এর পেছনে থাকে পুষ্টির ঘাটতিও।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ অভিশ্রী গয়াল বলেন, “চুল পড়ার মূল কারণ শরীরের ভেতরের পুষ্টিহীনতা। বিশেষ করে আয়রনের স্বল্পতা, পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার না খাওয়ার কারণে চুল পড়ে। ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, জিঙ্ক এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতিতেও চুল পড়ে।”
তিনি জানান, হঠাৎ ওজন কমানোর ডায়েট, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পানিশূন্যতাও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। ফলে চুলের ফলিকল আগেভাগেই বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায় এবং চুল ঝরতে শুরু করে। আরেক বিশেষজ্ঞের মতে, নারীদের মধ্যে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি বেশি দেখা যায়, তাই তাদের চুল পড়ে। তাই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, স্ক্যাল্পে পুষ্টি যোগাতে খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার রাখুন।
চুল পড়া কমাতে যেসব খাবার খাবেন
পালং শাক
পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফোলেট এবং ভিটামিন এ, যা মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করে। আয়রনের ঘাটতি পূরণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পালং শাক রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চিয়া সিড
আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া সিড। এতে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখে। শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত স্ক্যাল্পের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।
আখরোট
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের অন্যতম উৎস আখরোট। এসব উপাদান চুলের গোড়াকে শক্তিশালী রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, ফলে নতুন চুল গজানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
কটেজ চিজ (পনির)
নিরামিষভোজীদের জন্য কটেজ চিজ বা পনির হতে পারে উৎকৃষ্ট প্রোটিনের উৎস। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম চুলের গঠন মজবুত করে এবং কেরাটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে চুল হয় শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
স্যামন মাছ
যারা সামুদ্রিক মাছ খান, তাদের জন্য স্যামন একটি আদর্শ খাবার। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি এবং উচ্চমানের প্রোটিন। এসব উপাদান চুলের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়।
সূত্র: ভোগ
এ জাতীয় আরো খবর..