২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত হয়েছে শেষ ৩২ দলের নকআউট লড়াই। তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে শতভাগ সাফল্যে। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ফর্মে প্রতিটি ম্যাচেই ছিল আর্জেন্টিনার দাপট। একইভাবে তিন ম্যাচে তিন জয় পেয়েছে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলের ধারায় উড়েছে ‘লে ব্লু’। আয়োজক দেশ মেক্সিকোও গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় পাওয়া আরেকটি দল।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কয়েকটি ইউরোপীয় পরাশক্তি। ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে, যদিও টুর্নামেন্টের শুরুতে তারা কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। ব্রাজিল, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড এবং বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারবে না।
নকআউট সূচি প্রকাশের পর দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল ভিন্ন দুই ব্র্যাকেটে অবস্থান করছে। ফলে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই কেবল ফাইনালেই সম্ভব।
আর্জেন্টিনার সামনে তুলনামূলক সহজ পথ
রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কাবো ভার্দে। এবারের বিশ্বকাপে কয়েকটি চমক দেখালেও মেসিদের বিপক্ষে তাদের কাজটা কঠিনই হবে। এই বাধা পেরোতে পারলে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা খেলবে মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।
কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, ঘানা কিংবা আলজেরিয়া। কাগজে-কলমে এই চার দলের বিপক্ষেই ফেবারিট থাকবে আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, নরওয়ে কিংবা আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে পানামা বা ইকুয়েডর চমক দেখাতে পারলেও, ফাইনালের আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে খুব কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপের পরাশক্তিদের জন্য কঠিন সমীকরণ
অন্যদিকে নকআউট ব্র্যাকেটের অপর পাশে জমে উঠেছে ইউরোপের হেভিওয়েটদের লড়াই। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মতো দলগুলো একই পথে পড়ায় শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী শেষ ষোলোতেই মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স ও জার্মানি। একই পর্বে হতে পারে পর্তুগাল-স্পেন মহারণও। ফলে শিরোপার অন্যতম দাবিদার কয়েকটি দল খুব দ্রুতই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে পারে।
সব মিলিয়ে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার পথ তুলনামূলক সহজ হলেও ইউরোপের পরাশক্তিদের সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে তাদের শুরু থেকেই খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা।
সূত্র: এনডিটিভি
এ জাতীয় আরো খবর..